ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন

ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন
ছবি সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবার নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিল ইসরাইল। ফলে বৃহত্তর আরব-ইসরাইল শান্তিচুক্তির আশাও ধাক্কা খেল।

ওয়েস্টব্যাংক অসামরিক প্রশাসনের পরিকল্পনা কমিটি সেখানে নতুন বাড়ি তৈরিতে অনুমোদন দিয়েছে। এই বসতিতে ১ হাজার ১৩১টি বাড়ি থাকবে। আরো ৮৫৩টি বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়াও চলছে। তার চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি আছে। মাসখানেক আগে আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছে ইসরাইলের। তখন তারা জানিয়েছিল, নতুন করে ওয়েস্টব্যাংকের কোনো এলাকা নেওয়া হবে না। কিন্তু এখন তারা অধিকৃত অংশে নিজেদের বসতি বিস্তার করছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীর এলাকায় ইসরাইল আবার বসতি স্থাপনে উদ্যোগী হওয়ায় ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিন। কারণ, পুরো পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তৈরির চেষ্টা চলছে। ইসরাইলের নতুন বসতি তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু যে সেই প্রয়াসকে বিঘ্নিত করছে তাই নয়, বৃহত্তর আরব-ইসরাইল শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাও কমে গিয়েছে। এই চুক্তি তখনই সম্ভব, যখন ইসরাইল এই অধিকৃত অংশ ফিলিস্তিনকে দিয়ে দেবে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা সব দেশের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন অবিলম্বে এই নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বন্ধ করে। কারণ, এই উদ্যোগের ফলে প্রকৃত শান্তিচুক্তির প্রয়াস ধাক্কা খাবে।’ ইসরাইল ওয়েস্টব্যাংকের ভূখণ্ড অধিকার করেছিল ১৯৬৭ সালে। আমেরিকা ছাড়া অধিকাংশ দেশই মনে করে, ইসরাইল বেআইনিভাবে এই ভূখণ্ড অধিকার করে রেখেছে। ইসরাইলের দাবি, ঐতিহাসিকভাবে গাজা ভূখণ্ডের ওপর তাদের দাবি আছে। সেখানে ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি সাড়ে ৪ লাখ ইসরাইলি বসবাস করেন।

গত আট মাস ইসরাইল চুপচাপ ছিল। ইসরাইলের এনজিও ওয়েস্টব্যাংক পিস নাউ জানিয়েছে, এখন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পুরোদমে ওয়েস্টব্যাংকে বসতি স্থাপনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ওয়েস্টব্যাংকের অধিকৃত অংশের ওপর ইসরাইলের দাবি তিনি ছাড়বেন না। করোনাকালে ইসরাইলে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জয়প্রিয়তা কমেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহু এখন অধিকৃত ওয়েস্টব্যাংকে বসতি স্থাপনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিলেন। —ডয়চেভেলে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত