জরুরি অবস্থা তুলে নিচ্ছি, সহিংসতা থামাও

টিভি ভাষণে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে থাই প্রধানমন্ত্রী
জরুরি অবস্থা তুলে নিচ্ছি, সহিংসতা থামাও
থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।

জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে সরকারের পতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছে থাইল্যান্ডের বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল বুধবারও ব্যাংককে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান নিক্ষেপ করে ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এরপরই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা। কিন্তু গতকাল জাতির উদ্দেশে টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা যদি সহিংসতা বন্ধ করে তবে তিনি মাসব্যাপী জরুরি অবস্থা এখনই তুলে নেবেন।

উল্লেখ্য, রাজার ক্ষমতা খর্ব করা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী ব্যাংককে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছেন সরকারবিরোধীরা। সাম্প্রতিক সময়ে এত বিশাল বিক্ষোভ দেখা যায়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। কিন্তু সেই জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে রাজধানী ব্যাংককের একটি ব্যস্ত ক্রসিং পয়েন্টে বিক্ষোভ করতে শুরু করে জনতা। এতে ব্যাংকক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে পিছু হটে নমনীয় হয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী। গতকালের ভাষণে তিনি বলেন, আন্দোলন-বিক্ষোভে ক্ষতি হচ্ছে থাইল্যান্ডের। আমি জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে এলাম। আপনারাও এগিয়ে আসুন। বিক্ষোভ বন্ধ করুন। তবে আন্দোলনকারীরা এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা জানা যায়নি।

থাইল্যান্ড একটি রাজতান্ত্রিক দেশ। সেখানে রাজাকে দেখা হয় সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে। রাজা যে ক্ষমতা ভোগ করেন, তা সংস্কারের দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া তারা অধিকতর গণতন্ত্রের দাবি তুলেছেন। থাইল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে রাজপরিবারের সমালোচনা নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই ধারা ভঙ্গ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ঐ সব আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যে আইন রাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনার গলা টিপে ধরে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত