দোদুল্যমান আট রাজ্যের ১২৫ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটই এখন টার্গেট

ট্রাম্পের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে বাইডেন
দোদুল্যমান আট রাজ্যের ১২৫ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটই এখন টার্গেট
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। ফাইল ছবি

শেষ সপ্তাহে গড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা। জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ১২ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ইয়াহু নিউজ/ইউগভ এর জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনের এই সময়কালে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ক্লিনটন যে ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, তার চেয়ে চার গুণ বেশি ব্যবধানে এগিয়ে বাইডেন।

বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বাইডেন জয়ী হবেন সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। কারণ ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন জো বাইডেনের চেয়ে ৩০ লাখ পপুলার ভোট বেশি পেয়েছিলেন। কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের হিসাবে ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। তাই জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে থেকে বেশি ভোট পেলেই যে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবেন এমনটা নয়। প্রয়োজনীয় ইলেকটোরাল ভোট না পেলে হিলারির মতো পরিণতি হতে পারে তারও।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন এবং কিছুটা জটিল। যেখানে ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট হন না। বরং ইলেকটোরাল কলেজ নামে যে বিশেষ নির্বাচনি ব্যবস্থা আছেতার মাধ্যমেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটকে বলা যায়ইলেকটোরাল ভোট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট আছে। নিয়ম হলোদুটি ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পাবেন, তিনি রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট জিতবেন। এইভাবে ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি ভোট পাবেনতিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রভাব রয়েছে। কিছু রাজ্যে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হন। সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জিততে পারেন এমন রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১৬৩। অন্যদিকে কিছু রাজ্যে বরাবরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পান। এজন্য বাইডেন জিততে পারেন এমন ডেমোক্র্যাট রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে ২০৩টি।

এর বাইরে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেখানে প্রার্থীদের যোগ্যতার কারণে ভোট যে কোনো শিবিরে যেতে পারে। এসব রাজ্য সুইং স্টেট (দোদুল্যমান রাজ্য) নামে পরিচিত। যেখানে নির্ধারিত হয় কে প্রেসিডেন্ট হবেন। বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুইং রাজ্যের সংখ্যা আটটি। এগুলো হলোফ্লোরিডা, পেনসিলভেনিয়া, ওহাইয়ো, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন এবং আইওয়া। এসব রাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১২৫টি। কোনো প্রার্থীকে জিততে হলে বেশির ভাগ সুইং স্টেটে অবশ্যই জয় পেতে হবে। কারণেই শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের জোর তত্পরতা চলছে সুইং স্টেটগুলোতেই।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই আট অঙ্গরাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ব্যবধান খুবই সামান্য ছিল। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও এসব রাজ্যে সামান্য ব্যবধানে হেরেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। যে কারণে প্রয়োজনীয় ইলেকটোরাল ভোট অর্জন করতে পারেননি তিনি। ট্রাম্পকে দ্বিতীয় বার জিততে হলে অবশ্যই বেশির ভাগ সুইং রাজ্যে জয় ধরে রাখতে হবে। সে কারণে গত শনিবার এক দিনেই তিন সুইং স্টেটে প্রচারণা চালান তিনি। আগামী কয়েক দিনে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে এই আট অঙ্গরাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটিতে জিতলেই প্রেসিডেন্ট হতে পারেন বাইডেন।

গতকাল সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, সুইং স্টেটের পাশাপাশি সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যেও প্রচারণা চালাচ্ছেন বাইডেন। সপ্তাহেই বাইডেন জর্জিয়া আইওয়ায় সমাবেশ করবেন। তার রানিং মেট কমলা হ্যারিস শুক্রবার যাচ্ছেন টেক্সাসে। অন্যদিকে বাইডেনের সঙ্গে ব্যবধান কম আছে এমন সুইং স্টেটে প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। চার বছর আগে জিতেছিলেন এমন সাত রাজ্যে প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। যদিও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে ছয়টিতেই এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া এবং উইসকনসিন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। উইসকনসিন মিশিগানে জোর প্রচারণা চালাতে হিলারি ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে সমালোচনা রয়েছে। অবস্থায় বাইডেন এই তিন রাজ্যে (৪৬ ইলেকটোরাল ভোট) জোর দিচ্ছেন। এই তিন রাজ্যে জিতলে ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে বাইডেনের।

এদিকে আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার বেশি তহবিল সংগ্রহে রয়েছে বাইডেনের। যা দিয়ে সহজে বাকি দিনগুলোতে প্রচারণা চালাতে পারবেন তিনি।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত