ভারত তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত চীন

ভারত তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত চীন
প্রতিকী ছবি

চিনের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হতে পারে, এই আশঙ্কাতেই তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটেনি ভারত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলার পরে কিছুটা তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, “তাইওয়ানের বিষয়টি এমন কোনও ট্রাম্প কার্ড নয় যা ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যুতে ভারত তাদের কাজে লাগাতে পারে।

তাইওয়ানের এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারত যদি তাওয়ানের 'তাইওয়ান স্বাধীনতা বাহিনী'কে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেয় তবে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন দেয়ার কথা স্বীকার করেছে চীন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার কথা বিবেচনা করছে ভারত ও তাইওয়ান।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে "ভারত যদি তাইওয়ানের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে, তবে ভারতের সচেতন থাকা উচিত যে চীনও ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকাগুলোকে উষ্কে দিতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, “ভারত যদি‘ তাইওয়ানের স্বাধীনতার সমর্থনে পদক্ষেপ নেয়, তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য যেমন ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, আসাম এবং নাগাল্যান্ডে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন করতে পাড়ে চীন।শুধু তাই না সিকিমের পুনরুত্থানকেও সমর্থন করতে পারে চীন।

দ্য ইরাওয়াদ্দির একটি প্রতিবেদন অনুসারে দেখা যায়, চীনের প্রতিক্রিয়ার পিছনে কমপক্ষে তিনটি ঐতিহাসিক মূল কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণটি হচ্ছে, তাইওয়ান শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হওয়া কারণে চিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তাইওয়ান। তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডে সংযুক্ত করার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তবে বেইজিং গভীর সমুদ্র বন্দরগুলিতে পারমাণবিক সাবমেরিনগুলি বেসড করে প্রশান্ত মহাসাগরে অবিচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকারের অনুমতি পাবে এতে করে চীনের নৌবাহিনী আরও বেশি শক্তিশালী হবে।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে চীনের উদাসীনতার কারণে যদি তাইওয়ান স্বাধীন হয় তবে তাইয়ান চীনের হাত থেকে ফসকে যাবে, তারাও হংকং, তিব্বতের মতো স্বাধীনচেতা হয়ে উঠবে।

তৃতীয়ত, তাইওয়ান নিজেকে হাই-টেক এবং নির্মাণ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রমাণ করায় চীনের অর্থনৈতিক অবনতির কারণ হয়েউঠতে পারে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে করোনা মহামারীর ক্ষেত্রে। গত মাসে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের বাণিজ্য মন্ত্রীরা চীনকে বাদ দিয়ে নতুন রপ্তানি শৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে তাদের অভিপ্রায় ঘোষণা করেছিলেন। তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই উদ্যোগের সাথে নির্বিঘ্নে একমত ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: মুম্বাই হামলার প্রধান আসামীকে মুক্তি দিলো পাকিস্তান

ভারত যেহেতু চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক হ্রাসের পথে হাঠছে তাতে তাইওয়ান চীনের সাথে তাদের "বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তি বন্ধ করে" উপকৃত হতে পারে বলে আশা করছে দ্য ইরাওয়াদ্দিরের প্রতিবেদনটি।

এদিকে গত সপ্তাহে তাইপেই টাইমস তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিয়েন চুং-কাওয়ংয়ের বরাত দিয়ে জানায়,'সরকারের নতুন সাউথবাউন্ড পলিসি দিয়ে তাইওয়ানিজ ব্যবসায়ীদের গণতন্ত্র, পর্যাপ্ত মানবসম্পদ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কেন্দ্র করে উৎপাদন ঘাঁটি তৈরির জন্য ভারত একটি ভালো জায়গা। এএনআই।

ইত্তেফাক/এএইচপি

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত