মার্কিন তদন্তে সাংবাদিক খাশোগি হত্যায় দায়ী সৌদি যুবরাজ!

মার্কিন তদন্তে সাংবাদিক খাশোগি হত্যায় দায়ী সৌদি যুবরাজ!
সাংবাদিক খাশোগি ও সৌদি যুবরাজ। ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দায়ী বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে! চার মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। আর মার্কিন মিডিয়া সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি আরবের একটি গোপন তদন্ত রিপোর্টেও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারই গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা। রয়টার্স জানায়, সৌদি যুবরাজই সম্ভবত সাংবাদিক খাশোগি হত্যায় অনুমোদন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিই (সিআইএ) রিপোর্টে মূল ভূমিকা রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এই রিপোর্ট দেখেছেন।

এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন শিগগিরই সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। খাশোগি হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) এর কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত করা হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে করা এ তদন্ত প্রতিবেদনটি কখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন শিগগিরই এ প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে।

সিএনএন জানায়, সৌদি আরবের একটি গোপন নথিতে দেখা গেছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডে হত্যাকারী ব্যক্তিগত দুটি বিমান ব্যবহার করেছিল যা এক বছরেরও কম সময় আগে সৌদি যুবরাজ এবং কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান ঐ বিমান কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। বিমান দুইটির ব্যবহার সম্পর্কেও যুবরাজ অবগত ছিলেন।

খাশোগি হত্যার ঘটনায় মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলে তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক এ বিশেষ দূত মনে করেন, এ প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে খাশোগি হত্যার ঘটনায় কারা দায়ী তা জানা সম্ভব হবে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তিনি যুবরাজ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

বুধবার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে কথা বলেন ক্যালামার্ড। তিনি বলেন, আমাদের হাতে যদি আরো প্রমাণ আসে, তবে যেসব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে তা উপেক্ষা করাটা বাকি বিশ্বের জন্য অসম্ভব হবে। জবাবদিহিতার স্বার্থে এবং আমেরিকান গণতন্ত্রের স্বার্থে অবশ্যই ডিএনআই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

এর আগে ২০১৯ সালের জুনে ক্যালামার্ডের করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাশোগি হত্যার ঘটনায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। এ ব্যাপারে আরো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x