পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই!

তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই!
ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তপশিল শুক্রবার ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের উত্তেজনা অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শীর্ষ নেতাদের, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কয়েক দফা সফরের মাধ্যমে নির্বাচনী উত্তাপ আগে থেকেই বিরাজ করছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফায় হবে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শুরু হবে ২৭ মার্চ থেকে। আর শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২ মে।

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘ সময় বামদের ঘাঁটি ছিল। সেই বামদের সরিয়ে পরপর দুইবার ক্ষমতায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। এবারো কি তৃণমূল কংগ্রেস জিতে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসবে? নাকি ক্ষমতার পালাবদল হবে? তা নিয়েই চলছে আলোচনা। কারণ এবার পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে তত্পর কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে পশ্চিমবঙ্গে এবার নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘টানা’ বনাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘ধাক্কা’র।

খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এবারের মতো নির্বাচনি প্রচারণার মেরুকরণ আগে দেখা যায়নি। নির্বাচনের দিনক্ষণ শুক্রবার ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনি আমেজ কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে লড়াইটা হবে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার নির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ে তৃণমূল। সর্বশেষ তারা ২১১টি বিধানসভা আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে ২০১১ সালের নির্বাচনে বিজেপি একটি আসনও পায়নি। ২০১৬ সালে তারা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় তিনটি আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো— ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি জয়লাভ করে। তারা মোট ভোটের ৪০ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

এই সফলতা বিজেপিকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তারা এবারের নির্বাচনে তাই সর্ব শক্তি দিয়ে লড়তে চায়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে বিজেপির শীর্ষ নেতারা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিও আসছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে, তাদের রাজপথের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে খাদের কিনারে নিয়ে ফেলবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে ৩০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই ভোটের হার উত্তর প্রদেশ বা বিহারের চেয়ে বেশি। যে কারণে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মেরুকরণের সুযোগ নেওয়া বিজেপির জন্য সহজ হবে না। যেটা তারা উত্তর প্রদেশ ও বিহারে পেয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্র বলছে, বিজেপির যে কোনো ধরনের মেরুকরণ শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকে সুসংহত করবে। সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি ম্যানেজাররা বলছেন, রাজ্যের জঙ্গলমহল ও কোচবিহার এলাকাকে বিজেপি তাদের শক্ত ঘাঁটি মনে করছে। লোকসভা নির্বাচনে তারা ওই এলাকাগুলোতে ভালো করেছে। কিন্তু অন্য নয় জেলায় দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, মালদা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনিপুর, পশ্চিম মেদিনিপুর, বর্ধমান এবং নদিয়ায় বিধানসভার ২৯৪ আসনের প্রায় ২০০টি আসন রয়েছে। এসব জেলায় বিজেপির শক্তি অন্য জেলাগুলোর মতো নয়। গত নির্বাচনে এসব জেলার প্রায় ১৫০টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতারা বলছেন, লোকসভা নির্বাচন আর বিধানসভা নির্বাচন এক নয়। জাতীয় থেকে যদি রাজ্য নির্বাচনের হিসাব করা হয়, তবে বিজেপির ভোট ১০ শতাংশের মতো কমবে।

নির্বাচনি কৌশল প্রণয়নকারী প্রশান্ত কিশোর এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কাজ করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন দুই অঙ্কে পৌঁছাতে কষ্ট হবে।

এছাড়া তৃণমূল বলছে, বাম-কংগ্রেস জোট মিলে ত্রিপক্ষীয় লড়াইয়ের চেয়ে বিজেপির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় লড়াইটা তাদের জন্য অনেক বেশি স্বস্তির। কারণ তারা মনে করছেন, এর ফলে বিজেপিবিরোধী ভোট তৃতীয় জোটের ঝুলিতে না পড়ে তাদের পক্ষেই পড়বে। কিন্তু বিজেপিও হিসাব কষে নির্বাচনে নেমেছে। ইতিমধ্যে মুকুল রায় থেকে শুরু করে সুবেন্দু অধিকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদেরকে দলে ভিড়িয়েছে। তারা তৃণমূলের ভোট টানতে সচেষ্ট রয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার জন্য তারা বহু ধাপের সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। যেখানে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও রয়েছেন।

এ মাসের শুরুর দিকে বিজেপি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে। এই যাত্রা প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি বিধানসভা আসন প্রদক্ষিণ করবে। চলতি মাসের শুরুতেই আবারো পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই এ নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। সেক্ষেত্রে বাম-কংগ্রেস জোট কোনো চমক দেখিয়ে নির্বাচনের হিসাব বদলে দিতে পারে কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x