মিয়ানমারের শরণার্থী ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর ভারত

মিয়ানমারের শরণার্থী ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর ভারত
প্রতীকী ছবি।

মিয়ানমারে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে শরণার্থীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যারা জান্তা সরকারের আদেশ মানতে রাজি না হওয়ায় দেশত্যাগ করেন। তবে আর কেউ যাতে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে টহল জোরদার করেছে ভারত। শনিবার (৬ মার্চ) এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নামা, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে আসায় দোটানায় পড়েছে ভারত সরকার। কারণ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বা তাতমাদাওয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে নয়াদিল্লির। ভারতের অনুরোধে গত দুই বছর উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে বিদ্রোহী দমনে বহুবার অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। জবাবে গত বছর বার্মিজদের প্রথম সাবমেরিন উপহার দিয়েছে ভারত।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য মিজোরামের চাম্পাই জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা মারিয়া জুয়ালি বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। সীমান্তের সম্মুখভাবে ভারতীয় সেনা ও পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে। মিজোরামের আরেক জেলা সারচিপের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কুমার অভিষেক জানান, সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে এক নারী ও এক শিশুসহ আটজন ভারতে প্রবেশ করেছেন। আরও বহু মানুষ তাদের পথ অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

মিজোরামের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে মিয়ানমার পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলে অন্তত ৩০ জন ভারতে প্রবেশ করেছেন। এই আলাপের আগের রাতেও কিছু লোক ঢুকেছে বলে জানান তিনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের জোর টহল সত্ত্বেও মিয়ানমারের লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারা বিভিন্ন রুট দিয়ে আসছে। সীমান্ত ছিদ্রযুক্ত। সুতরাং, আপনি এটা আটকাতে পারবেন না।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই সেনাশাসনের বিরোধিতায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের জনগণ। বিক্ষোভ দমনে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশটির জান্তা সরকারও। সেখানে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে এপর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। এ কারণে সেনাশাসকদের নির্দেশ অমান্য করে অনেকেই মিয়ানমার থেকে পালাতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে দেশটির পুলিশ সদস্যরা।

ইত্তেফাক/এসএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x