বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তান আন্দোলন কেনো শিখদের নয়?

বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তান আন্দোলন কেনো শিখদের নয়?
ছবি: সংগৃহীত

মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, কাশ্মির ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে ভূগেছে ভারত। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল পাঞ্জাবের খালিস্তান বিদ্রোহ। ১৯৮০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে এ বিদ্রোহে ১১ হাজার বেসামরিক ব্যক্তি, প্রায় এক হাজার ৭৮৪ নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য এবং আট হাজারের বেশি উগ্রবাদী মারা গেছে। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য খালিস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা।

এই আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে পাকিস্তান। দেশটির জেনারেল জিয়া-উল-হকের পরিকল্পনা ছিল খালিস্তান আন্দোলনের পেছনে। তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধে হারার প্রতিশোধ হিসেবে এটা চেয়েছিলেন।

খালিস্তান আন্দোলন শিখদের একটি পৃথক জাতি গঠনের ধারণার ভিত্তিতে তৈরি। এই ধারণার অনুপ্রেরণা এসেছে মুসলমানদের জন্য মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলাদা রাষ্ট্রের পরিকল্পনা থেকে।

৮০'র দশকে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) সমর্থন নিয়ে পাঞ্জাব ভিত্তিক খালিস্তান আদর্শবাদীরা জর্নাইল সিং ভিন্দ্রনওয়ালেকে তাদের দৃশ্যমান নেতা হিসেবে তৈরি করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সুবিধাবাদী নির্বাচনী রাজনীতি তাদের উত্থানের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে, কানওয়ার পাল সিংহের (কেপিএস) গিলের নেতৃত্বে খালিস্তান আন্দোলনের সবচেয়ে সহিংস পর্বটি ভারতের পুলিশ বাহিনী নসাৎ করে দেয়। আস্তে আস্তে শিখরা আবার জাতীয় মূল ধারায় ফিরে আসে।

সহিংস পর্ব শেষ হয়ে গেলেও পশ্চিমা দেশগুলর শিখ প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি টিকে ছিল। খালিস্তানের অনেক নেতা কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপে স্থায়ী হয়ে এই আন্দোলন টিকিয়ে রেখেছিলেন। পাকিস্তানও পশ্চিমা বিশ্বে খালিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করে চলেছে।

২০০৭ সালে, খালিস্তান নেতা গুরপতবন্ত সিংহ 'রেফারেন্ডাম ২০২০' (পৃথক স্বদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্ব শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি গণভোট) পরিচালনা করার জন্য 'শিখস ফর জাস্টিস' (এসএফজে) ফোরাম শুরু করেছিলেন। নতুন কৃষি সংস্কারের আওতায় রাষ্ট্রীয় কার্টেলিং ভর্তুকির কারণে কৃষকদের মধ্যে বর্তমান হতাশার কারণে খালিস্তান আন্দোলনের সুযোগ রয়েছে।

খালিস্তান আন্দোলনটি তার নতুন রূপে আরও বিপজ্জনক। কারণ এটি স্ব-সংকল্পের অধিকারের জন্য ভারতের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিখ সংখ্যালঘুদের একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও উদার আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে।

তবে এর মূল ভিত্তিতে এটি একটি সহিংস ও চরমপন্থী আন্দোলন হিসাবে অব্যাহত রয়েছে, যেমন স্বাধীন বাকস্বাধীনতা, বহুসংস্কৃতিবাদ, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের মতো উদার মূল্যবোধের প্রতি সহিষ্ণুতা নেই।

(লেখক: অভিনব পান্ডে। লেখাটি ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ডট ওআরজি থেকে অনূদিত এবং সংক্ষেপিত)

ইত্তেফাক/এসএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x