পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর মর্যাদা বেশি

পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর মর্যাদা বেশি
ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের থেকেও বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে আছে। বিশেষ করে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ঢাকার এগিয়ে যাওয়ার বিপরীতে ইসলামাবাদে তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম জিনিউজ।

সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন হয়। কিন্ত ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নারী অধিকারের ক্ষেত্রে দেশ দুটোর অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দশকে পাকিস্তানে নারীর অধিকার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

আধুনিক কূটনীতির জন্য ফ্যাবিয়েন বাউসার্ট লিখেছেন, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রে নারীরা সুবিধাবঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ সমাজে এখনো নারীদের ঘরের বাহিরে কাজ করা সম্মানহানী হিসেবে দেখে দেশটির পুরষশাষিত সমাজ।

পাকিস্তানের বর্তমান নারী নীতিটি ১৯৭৭ সালে তৎকালীন জিয়া উল হকের সামরিক শাসনব্যবস্থার সময় জারি করা হয়েছিল। যা নারীদের ওপর দমন ও প্রতিরোধমূলক আইন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতি বছর পাকিস্তানে অন্তত প্রায় ১ হাজার নারীকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ফয়সালাবাদ জেলার পাঞ্জাবে ১৯ বছরের বালিকা মাহবিশ আরশাদ হত্যাকাণ্ড অন্যতম। বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার পরিবারের সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ উঠে।

দেশটিতে সংখ্যালঘু নারীদের নিয়মিত হয়রানীর শিকার হতে হয়। প্রতিবছর অন্তত এক হাজার খ্রিষ্টান ও হিন্দু মেয়েকে জোর করে মুসলিম ছেলেদের সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। তালেবান এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখনো স্কুলে বোমা হামলা চালায় ও শিশুদের দ্বারা আত্বঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান বাংলাদেশে। এখানে নারীদের অধিকার ও উন্নয়ন ক্রমশ বাড়ছে। মাতৃ মৃত্যুহার কমছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রগুলোতেও নারীদের অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করছে সরকার। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। যেটি আবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত।

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x