পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে যেভাবে জিতলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে যেভাবে জিতলেন মমতা
মমতা ব্যানার্জী। ছবি: সংগৃহীত

ভোটের ফল যখন স্পষ্ট, তখন কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির কাছেই তখন কয়েকশ সমর্থক সবুজ আবির মেখে তুমুল নাচ করছিলেন ‘খেলা হবে’ গানটির সঙ্গে। মমতা ব্যানার্জী তার প্রতিটা সভাতেই মানুষের কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘কী খেলা হবে তো?’ সমর্থকরা চিত্কার করে বলেছেন , ‘হ্যাঁ খেলা হবে।’ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সব নির্বাচিত বিধায়করা আবারও মমতা ব্যানার্জীকে পরিষদের দলনেত্রী হিসাবে নির্বাচিত করেছেন। বুধবার তিনি তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন।

বিশ্লেষক থেকে শুরু করে কলকাতার সাধারণ মানুষ বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিপুল জয়ের পিছনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক তপশ্রী গুপ্তর কথায়, ‘তৃণমূলের এই সাফল্যের পিছনে বিজেপির পক্ষে নেতিবাচক প্রচারণা একটা বড় কারণ কাজ করেছে। তারা বাইরে থেকে, বিশেষত হিন্দি বলয় থেকে নেতাদের নি েএসেছে, এখানে ভোটের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে। সঙ্গে আমদানি করেছেন একটা অবাঙালী সংস্কৃতির। তার মধ্যে একটা বড় দিক চূড়ান্ত ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি, যা পশ্চিমবঙ্গের চিরাচরিত সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির ধারণার একেবারে বিপরীত।’ সাধারণ মানুষদের একটা বড় অংশও কিন্তু একই কথা বলছেন।

কাবেরী বিশ্বাস নামের আরেক নারী ভোটার বলছিলেন ‘ধর্মীয় বিভাজন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, বাঙালীরা কখনই পছন্দ করে না। বিজেপির বিরুদ্ধেই তাই বাংলার একটা বড় অংশ ভোট দিয়েছে বলে আমার মনে হয়।’ খবর বিবিসি বাংলার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভাশীষ মৈত্রর ব্যাখ্যা, ‘এবারে বিজেপিবিরোধী সব ভোটই তৃণমূল কংগ্রেসই পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এমনকি তাদের মধ্যে সেই সব ভোটার, যারা সাধারণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচক, তারাও কিন্তু মমতা ব্যানার্জীকেই ভোট দিয়েছেন। কারণটা, বিজেপিকে আটকাতে হবে, এই মানসিকতা তাদের মধ্যে কাজ করেছে।’ বিজেপি বিরোধী সব ভোটই যে প্রায় একচেটিয়াভাবে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে, তা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব থেকেও স্পষ্ট। আবার এটাও স্পষ্ট, যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা বিজেপি করেছিল, তা সফল হয়নি, বলছিলেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী।

বিশ্লেষত অধ্যাপক বসু রায় চৌধুরী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দল মোটামুটিভাবে ৪৩-৪৪ শতাংশ ভোট পায়, তাদের জয় সুনিশ্চিত। এখন মোট ভোটার থেকে যদি প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট বাদ যায়, কারণ ওই ভোট বিজেপি একটুও পায়নি, তাহলে ৭০ শতাংশ ভোট পড়ে থাকে। এই অমুসলিম ভোটই বিজেপির লক্ষ্য ছিল। ধর্মীয় বিভাজনটা তারা পুরোপুরি করতে পারে নি। মোটামুটিভাবে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ তাদের বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেই হিসাবেই বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৩৮ শতাংশ, আর তৃণমূলের প্রায় ৪৭ শতাংশ।’

তপশ্রী গুপ্তর মন্তব্য, ‘ধর্মীয় বিভাজন ছাড়াও যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতারা এসেছেন, যার আমলে উত্তরপ্রদেশে অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড হয়েছে, যুবক-যুবতীদের একসঙ্গে মেলামেশা প্রেম করা বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা এসব তারা বরদাস্ত করে না। সেই জিসি যদি পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়, এখানকার খোলামেলা, উদার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত কম বয়সী ভোটারদের একটা বড় অংশ ভয় পেয়েছে, তাই তারা বিজেপিকে আসতে দিতে চায়নি।’

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x