এরদোয়ানের খাল প্রকল্প শ্বেতহস্তীতে পরিণত হতে পারে

এরদোয়ানের খাল প্রকল্প শ্বেতহস্তীতে পরিণত হতে পারে
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ব্ল্যাক সী এবং মারমারা সাগরকে সংযুক্ত করবে এমন একটি খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। খালটির দৈর্ঘ্য হবে ৪৫ কিলোমিটার। অতীতে এরদোয়ান নিজেই এই সুবিশাল প্রকল্পকে পাগলাটে বলে উল্লেখ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে এটি এখন তুরস্কের জন্য শ্বেতহস্তী হয়ে দাঁড়াতে পারে। মঙ্গলবার (৪ মে) এখবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই খাল খননের কাজ ব্যাপক পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং রাশিয়ার সাথে তুরস্কের সমস্যা আরো বাড়াবে। মেগাপ্রকল্পের প্রতি এরদোয়ানের আগে থেকেই ঝোঁক রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইস্তাম্বুলের বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর, বসফরাসের নিচ দিয়ে রেলওয়ে টানেল, বসফরাসের ওপর দিয়ে তৃতীয় সেতু, একহাজার কক্ষবিশিষ্ট প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস ইত্যাদির কথা।

এগুলোর মধ্যে কিছু প্রকল্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। যেমন, তৃতীয় বসফরাস সেতু এবং মারমারা মোটরওয়ে যৌথভাবে পরিচালনা করতো এক ইটালিয়ান-তুর্কি কনসোর্টিয়াম। তারা এখান থেকে সরে গেছে। এই কনসোর্টিয়ামের জায়গায় সম্ভবত একটি চীনা কনসোর্টিয়াম আসবে। অন্যদিকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর করোনার কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা হারাচ্ছে। এর জন্য তুর্কি সরকার চীনা আইসিবি ব্যাংকের কাছ থেকে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রস্তাবিত খালটির খরচ ১৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে ২৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে হবে। এই খালের পরিকল্পনা শুরু করা হয় ২০১১ সালে। তুর্কি সরকারের মতে, বসফরাসের মধ্যে দিয়ে জলযান চলাচলে সহায়তা করবে এই খাল। ফলে ইস্তাম্বুলে দিয়ে চলাচল করা জাহাজ এবং অয়েল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা কমবে।

এই প্রকল্পের বিরোধিতাকারী বলছেন, এই খাল তুরস্ককে গভীর ও অপ্রয়োজনীয় দেনায় ডুবিয়ে দেবে। বর্তমানেই বিপুল বৈদেশিক ঋণ আছে দেশটির। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা সোনমেজ বলেছেন, এর কোনো অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নেই। শিপিংয়ের জন্য বসফরাসের অবস্থা এখনো ভালো এবং এখানে যথেষ্ট জায়গায়ও আছে।

তুরস্কের পরিবেশবাদীরা এই প্রকল্প ঘৃণা করেন। কারণ এর কাজ করতে গেলে ব্ল্যাক সীর পাশের বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। একইসঙ্গে এই প্রকল্প ইস্তাম্বুলের মিঠাপানির সম্পদ এবং ইকোসিস্টেম ধ্বংস করবে। এছাড়াও, এতে ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে বিপুল পরিমাণ জমি কাটা পড়বে। এই এলাকা ভূমিকম্পের সময় ইভ্যাকুয়েশন জোন হিসেবে ব্যবহার করা যেত কারণ দেশটির বৃহৎ এ শহর একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এখানে বড় ভূমিকম্পের হুমকি রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x