নিজেদের শক্তি পুনরুদ্ধারে মোজাম্বিকে আইএসের ঘাঁটি

নিজেদের শক্তি পুনরুদ্ধারে মোজাম্বিকে আইএসের ঘাঁটি
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্য প্রাচ্যে অপমানজনক পরাজয়ের পরে মোজাম্বিকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে ইসলামিক স্টেট। আই এস মোজাম্বিকের সরকারের দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এবং দ্য হিলের সেন্টার অফ পলিটিকাল অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের (সিপিএফএ) এর পরিচালক কেলি আলখৌলি এক রিপোর্টে মতামত প্রকাশ করে বলেন, এই গোষ্ঠীটি এখন হুমকি সরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মোজাম্বিক সরকারের দুর্নীতি এবং অদক্ষতা ইসলামিক স্টেটের পক্ষে নিজেকে পুনঃস্থাপনের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০১৭ সাল থেকে মোজাম্বিকের ক্যাবো দেলগাদো প্রদেশে বিদ্রোহ চলছে, যেটি বর্তমানে তীব্র আকার ধারণা করেছে। মোজাম্বিক প্রধানত একটি খ্রিস্টান–অধ্যুষিত রাষ্ট্র, কিন্তু রাষ্ট্রটির প্রায় ১৮% নাগরিক মুসলিম। ৮২,৬২৫ বর্গ কি.মি. আয়তন এবং প্রায় ২৩ লক্ষ ২০ হাজার জনসংখ্যা বিশিষ্ট ক্যাবো দেলগাদো প্রদেশটিতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রদেশটির মোট জনসংখ্যার ৫২.৫% মুসলিম। প্রদেশটি মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত, এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ রুবি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। উল্লেখ্য, মোজাম্বিকের হাইড্রোকার্বন খাতে প্রায় ৬,০০০ কোটি (বা ৬০ বিলিয়ন) বিদেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে বা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মূল অংশীদার মার্কিন কোম্পানি 'এক্সনমোবিল' এবং ফরাসি কোম্পানি 'টোটাল'।

এই তিনটি মেগা-গ্যাস প্রকল্প দেশটিকে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার এনে দিতে সক্ষম। জিডিপি ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মোজাম্বিকের জনগণের জীবনযাত্রার মান ব্যাপক উন্নতি করা সম্ভব। কিন্তু এই অঞ্চলে অব্যাহত থাকা তিনটি প্রকল্পই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হতে পারে জানিয়েছে দ্য হিল।

২০১২ সালে মোজাম্বিকের আল-শাবাবের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটিকে নিজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিকাশে বাধা দিচ্ছে এবং শীঘ্রই প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য সুরক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে ধারনা করে হচ্ছে।

২০১৭ সালে প্রদেশটিতে স্থানীয় মিলিট্যান্ট গ্রুপ 'আনসার আল–সুন্নাহ' সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। গ্রুপটি বিভিন্ন শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত এবং পরবর্তীতে গ্রুপটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইরাক ও সিরিয়া কেন্দ্রিক 'ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট'–এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। এরপর অঞ্চলটিকে ইসলামিক স্টেটের মধ্য আফ্রিকা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আগে থেকেই মোজাম্বিকের সশস্ত্র-বাহিনী দুর্বল, স্বল্প প্রশিক্ষিত, ও স্বল্প পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। প্রাথমিক পর্যায়ে মিলিট্যান্টরা স্থানীয় জনসাধারণ ও স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ পরিচালনা করত, কিন্তু মোজাম্বিকান সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে যেত। ক্রমশ মিলিট্যান্টদের শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং একপর্যায়ে তারা সশস্ত্রবাহিনীর ওপরেও আক্রমণ চালাতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত অন্তত কয়েক হাজার সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি এ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে, এবং প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ এ যুদ্ধের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।

২০২০ সালে ক্যাবো দেলগাদোর বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করে। এ সময় মিলিট্যান্টরা বেশকিছু অঞ্চল দখল করে নিতে সমর্থ হয়। একপর্যায়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোজাম্বিয়ার দা প্রাইয়া শহরটিও দখল করে নিয়েছিল। শত শত মোজাম্বিকান সৈন্য এ বছর মিলিট্যান্টদের হাতে নিহত হয়।

এ বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পালমাতে জঙ্গিদের আক্রমণে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। অবরুদ্ধ করে রাখা একটি হোটেল থেকে পালানোর চেষ্টাকালেই ৭ জন নিহত হয়। সমুদ্রতীরে ছড়ানো ছিটানো একাধিক মাথাবিহীন দেহ পাওয়া যায়। এএনআই।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x