মেয়াদকালের দিক দিয়ে থ্যাচারকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন জনসন

মেয়াদকালের দিক দিয়ে থ্যাচারকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন জনসন
বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি (টোরি) বিরোধী লেবার পার্টির চেয়ে অন্তত ৩৬টি আসন বেশি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেমনটি যদি ঘটে সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মেয়াদকালের দিক দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে অতিক্রম করবেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হার্টলপুল উপনির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি ঘটে।

টোরি দলের জিল মর্টিমার ঐ আসনে প্রতিপক্ষের চেয়ে ৭ হাজার বেশি ভোটে জেতেন। আসনটি ছিল লেবার পার্টির অন্যতম শক্ত একটি ঘাঁটি। ১৯৬৪ সালের পর এই প্রথম তারা আসনটি হাতছাড়া করে। টোরি দল একই রকম ভূমিধস জয় পায় উত্তর পশ্চিমাঞ্চলেও। সেখানে টিজ ভ্যালির মেয়রের পদটি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ধরে রাখেন বেন হাচেন। এখানে উল্লেখ্য বিষয় হলো, তিনি মোট ভোটের ৭৩ শতাংশ পেয়েছেন। চার বছর আগে পেয়েছিলেন ৩৯.৫ শতাংশ ভোট।

নর্থহাম্বারল্যান্ড, নটিংহামশায়ার, ডুডলি, হারলো, নুনিয়েটন ও বেডওয়ার্থসহ বহুসংখ্যক কাউন্সিল পদে কনজারভেটিভ পার্টি জয় পেয়েছে। জনসনের মন্ত্রীরা মনে করেন জাতীয় রাজনীতিতে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টোরিমুখী হয়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে জনসন মেয়াদকালের দিক দিয়ে থ্যাচারকে ছাড়িয়ে যাবেন। থ্যাচার ১৯৭৯ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত ১১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

জনসন রাজনৈতিকভাবে লেবার পার্টির চেয়ে এগিয়ে গেলেও স্টকল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেনের তার দ্বন্দ্বে জাড়িয়ে পড়তে চলেছেন। কারণ ব্রেক্সিটের সফল বাস্তবায়নের পর নিকোলা এখন স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজনের কথা বলতে শুরু করেছেন। জনসন এরই মধ্যে এ দাবিতে ‘দায়িত্ব জ্ঞানহীন হঠকারিতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্বাধীনতার প্রশ্নে স্কটল্যান্ডে প্রথম গণভোট হয় ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। তখন স্বাধীনতার পক্ষে ভোট পড়ে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ, আর বিপক্ষে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সম্প্রতি ব্রেক্সিট নিয়ে স্কটল্যান্ডে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। দেশের অন্যান্য অংশ ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিলেও স্কটিশদের বড় অংশ এর বিপক্ষে রায় দেয়।

ব্রেক্সিটর ফলে জনসন ও নিকোলা উভয়ের পক্ষেই জনসমর্থন বেড়েছে। নিকোলার নেতৃত্বাধীন এসএনপি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবার পার্টি এখন আগের মতো শ্রমজীবী ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা হয়ে উঠেছে অনেকটা লন্ডনকেন্দ্রিক শহুরে পার্টি। তারা শ্রমজীবীর চেয়ে বরং ধনিক শ্রেণিকে কাছে টানতে আগ্রহী। এ কারণেই তাদের প্রতি জনসমর্থন কমেছে।

ইত্তেফাক/টিআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x