পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে আলাদা রাজ্য গঠনের দাবি বিজেপি এমপির

পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে আলাদা রাজ্য গঠনের দাবি বিজেপি এমপির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জেলায় বিজেপির আধিক্য রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর অনেক নেতা-কর্মীই দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় দল মজবুত রাখতে উত্তরের জেলাগুলোকে নিয়ে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার দাবি তুলেছেন বিজেপির এক পার্লামেন্ট সদস্য। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত সাংসদ জন বার্লা বলেছেন, দলকে বাঁচাতে তিনি এই দাবি নয়াদিল্লির লোকসভাতে তুলবেন। এ দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের আরো কয়েকজন বিজেপি সাংসদ। তবে তারা এটাও জোর গলায় বলছেন যে, এটি দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

এদিকে, দাবিটি তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ দু’টোই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে এবং এতে কোনো রকম ডিভাইড এন্ড রুল করতে দেওয়া হবে না। এসব রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কখনই সম্ভব হবে না।

এ সময় প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল মানে কী কাশ্মিরের মতো মুখ বন্ধ করে রেখে দেওয়া, তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া, নজরবন্দী করে রাখা? বাংলাকে টুকরো করে কার স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে তারা?

উত্তরবঙ্গ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলছেন, উত্তরবঙ্গের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সেখানকার মানুষের হয়তো চাহিদা আছে এবং সেই অনুযায়ী তিনি সেটা তুলে ধরেছেন। জনগণের কোনো দাবির কথা বলাই যায়। তার মানে এই নয় যে এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।

হঠাৎ করে কেনো এরকম দাবি উঠলো, বিষয়টা এভাবে দেখলে ভুল হবে বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা। বলেন, দলের পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দৈনিক উত্তরবঙ্গ সংবাদের সহযোগী সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গৌতম সরকার বলেন, বাংলাকে ভাগ করার কোনো দাবি তুললে সেটা পুরো রাজ্যের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। আর তা বিজেপি ভালোই করেই বুঝে। তবে সংগঠন ধরে রাখার জন্যই তারা এমন দাবি সামনে আনছে।

উত্তরবঙ্গে এবার বিজেপি ভালো ফল করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী দলটি নিজেদের সংগঠন ধরে রাখতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কর্মীরা মার খেলেও বিজেপি নেতারা পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারছে না। এ কারণে অনেক কর্মী তৃণমূলের দিকে চলে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিজেপির পক্ষে সংগঠন ধরে রাখা কঠিন হবে বলেই মনে করেন গৌতম সরকার।

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x