আলাপন ইস্যুতে আইনি লড়াইয়ের চিন্তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

কেউ গায়ের জোর দেখালে মানব না: মমতা
আলাপন ইস্যুতে আইনি লড়াইয়ের চিন্তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারত সরকারের চার্জশিট-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পর বিষয়টি মোকাবিলায় আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে রাজ্যসরকার। এখন পর্যন্ত গোটা বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে আলাপনের পাশে থাকার বার্তাও দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে আলাপন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে তিনি বলেন, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভারত সরকারের আচরণ ‘সেলফিশ জায়ান্ট’-এর মতো। কেউ যদি গায়ের জোর দেখিয়ে আচরণ করে আমরা মানব না।

মমতা বলেন, সরকারের চিঠির জবাবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় যে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন না কেন, তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এটা শুধু তার লড়াই নয়, ভারতের সব আইএএস এবং আইপিএস কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আছে। মমতা বলেন, বিজেপি আসলে একটা রোগ। এরা নিজেদের হার মানতে জানে না। জনতার রায় মানতে জানে না। সাধারণ মানুষের চাহিদা বোঝে না। এরা আইন মানে না।

No description available.

প্রসঙ্গত, গত সোমবার আলাপনের বিরুদ্ধে ভারত সরকার চার্জশিট দিয়ে ‘মিস কনডাক্ট অর মিসবিহেভিয়ার’-এর অভিযোগ এনেছে। এই কারণে ‘মেজর পেনাল্টি প্রসিডিংস’শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস রুলস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড অ্যাপিল) এর ৮ নম্বর ধারা এবং ১৯৫৮ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস রুলস (ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) অনুসারে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ধারায় তার পেনশন আটকানো হতে পারে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর এমএলএর মৃত্যু, পদত্যাগের কারণে সাতটি আসন শূন্য হয়েছে। এই আসনগুলোতে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, আমরা চাইব—উপনির্বাচন দ্রুত হোক। সাত দিন প্রচারের জন্য দেওয়া হোক। সকাল ১০টা থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রচারের সময় দিলেই হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশি নিতে চাই না। মমতা বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে উপনির্বাচনের ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এমনটা হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে উপনির্বাচনের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করব। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম আসনে পরাজিত হওয়ায় ছয় মাসের মধ্যে ভোটে জিতে আসতে হবে মমতাকে। ভবানীপুর আসনটি তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মমতার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্র বলছে। সেখান থেকেই উপনির্বাচনে লড়তে পারেন তিনি।

ইত্তেফাক/এসএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x