একটি সাবমেরিন চুক্তি যখন বড় কূটনৈতিক সংকটের কারণ

একটি সাবমেরিন চুক্তি যখন বড় কূটনৈতিক সংকটের কারণ
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতার পর ফ্রান্সের সঙ্গে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির চুক্তি বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছে ফ্রান্স।

এতে ফ্রান্সের যেমন আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তেমনি তাদের সম্মানে আঘাত লেগেছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতদের দেশে তলব করে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ন্যাটো মিত্র ফ্রান্সে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, ফ্রান্সের সঙ্গে সাবমেরিন নির্মাণ চুক্তি বাতিলের পরপরই ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরা থেকে ডেকে পাঠায় প্যারিস। পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান উত্থানকারী শক্তি চীনকেও ক্ষুব্ধ করেছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

The Erosion of U.S. Deterrence Raises the Risk of War With China

এদিকে ত্রিদেশীয় এ পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফ্রান্সের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেয়ান উভস লে ড্রাইয়ান। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে। চীন অন্যায়ভাবে দক্ষিণ চীন সাগরকে তাদের বলে দাবি করছে বলেও বলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আবার বক্তব্য দিয়েছে চীন। তারা বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগর তাদেরই। তা নিজেদের বলে দাবি করার কিছু নেই।

সানডে টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক লেখায় অকাস চুক্তির পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুস। তিনি বলেছেন, এতে ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষার বিষয় আছে। ওদিকে এই চুক্তির ফলে বিশ্বে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের দিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়া হবে সপ্তম দেশ।

গত বুধবার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে চীনকে মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ত্রিদেশীয় চুক্তির ফলে ফ্রান্সের কাছ থেকে আর সাবমেরিন নেবে না ক্যানবেরা। আর এতেই ক্ষুব্ধ ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন।

এ ধরনের সাবমেরিন কয়েক মাস পানিতে ডুবে থাকতে পারে। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপেও সক্ষম। অকাস নামের নতুন চুক্তিটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x