মমতার আসনে ভোট স্থগিতের দাবি বিজেপির

প্রচারণায় হামলার অভিযোগ, পালটা বিবৃতি তৃণমূল কংগ্রেসের
মমতার আসনে ভোট স্থগিতের দাবি বিজেপির
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার ভবানীপুর আসনের উপনির্বাচনের শেষ দিনের প্রচারে হঠাত্ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। গতকাল সোমবার নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে বিজেপির সাবেক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হামলার মুখে পড়েন বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হোক। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবিও জানিয়েছে বিজেপি।

তবে পালটা বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, নিজেরাই অশান্তি বাঁধিয়ে নির্বাচন বন্ধ করাতে চাইছে বিজেপি। ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। ৩০ সেপ্টেম্বর সেখানে ভোটগ্রহণ হবে।

দুনীর্তির শিকার হলে ফোন করুন ৭০৪৪০৭০৪৪০ : দিলীপ ঘোষ | রাজ্য News in Bengali

দিলীপ ঘোষ

গতকাল সোমবার কলকাতার নিউমার্কেটের কাছাকাছি ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারে প্রচারে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল-সমর্থকরা। বিজেপি ও তৃণমূল-সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে এক বিজেপি কর্মীর মাথা কেটে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তা রক্ষীর হাতে ‘সার্ভিস পিস্তল’ দেখা যায়। কেন এই অশান্তি হলো এবং কোন পরিস্থিতিতে দিলীপের দেহরক্ষীদের ‘সার্ভিস পিস্তল’ উঁচিয়ে ধরতে হলো সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমি প্রচারে গেলে চারদিক দিয়ে ঘিরে আক্রমণ করা হয়। বাধ্য হয়ে ভয় দেখাতে আমার নিরাপত্তা রক্ষীরা বন্দুক বের করেন। এর এক ঘণ্টা আগে আমাদের এমপি অর্জুন সিং প্রচারে গেলে তাকেও ধাক্কাধাক্কি করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘ভোটারদের কাছে পৌঁছতে না পারলে নির্বাচন হবে কীভাবে? সাধারণ মানুষ কীভাবে ভোট দিতে যাবেন? যারা বিজেপিকে ভোট দিতে চান তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তাই আমরা নির্বাচন স্থগিত রাখার দাবি জানাচ্ছি।’

পালটা জবাব দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সৌগত রায় বলেন, ‘দিলীপ ঘোষসহ কিছু বিজেপি কর্মী যদুবাবুর বাজারের সামনে গোলমাল করতে গিয়েছিলেন। এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। ওরা প্রথম থেকে চেষ্টা করে চলেছে যেন গন্ডগোল করে ভোট স্থগিতের দাবি তোলা যায়।

ভবানীপুরে বিজেপি জিততে পারবে না—এটা বুঝে গেছে।’ কলকাতার সাবেক মেয়র এবং পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘দিলীপ ঘোষকে আমাদের কর্মীরা কোনো বাধা দেয়নি। তিনি মিথ্যে কথা বলছেন। কেউ যদি গন্ডগোল করে থাকে তাহলে পুলিশ তা দেখবে। ভোট বন্ধ হবে কেন?’

ইত্তেফাক/টিআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x