ঢাকা সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


নির্ভার বিজেপি, আশা ছাড়ছে না বিরোধীরাও

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা আজ
নির্ভার বিজেপি, আশা ছাড়ছে না বিরোধীরাও
ফাইল ছবি

দিল্লির মসনদে কে বসছেন? নরেন্দ্র মোদি আবারো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নাকি বিরোধীরা জোট করে ভারতের শাসন ভার গ্রহণ করছেন? আজ বৃহস্পতিবার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্য দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। আজই অবসান হবে ভারতে চলমান দীর্ঘ আড়াই মাসের উত্তেজনা, উত্কণ্ঠারও। ইতিমধ্যে বুথ ফেরত জরিপগুলো ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সহজ জয়ের আভাস দিয়েছে। জরিপের ফলে অনেকটাই নির্ভার বিজেপি। সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে বুথ ফেরত জরিপকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় কংগ্রেস-সহ বিরোধীদলগুলো। বরং জনতার রায় যেন বদলে ফেলা না হয় সেজন্য তত্পরতা অব্যাহত রেখেছেন ২২টি বিরোধীদলের নেতারা। রাত জেগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পাহারা দিচ্ছে দলগুলো। ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী দলীয় নেতা-কর্মীদের আগামী ২৪ ঘণ্টায় সতর্ক এবং ভয়হীন থাকতে বলেছেন। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। ‘১৩০ কোটি’ জনসংখ্যার দেশে ভোটার ৯০ কোটি। বড় দেশ, বিপুল জনসংখ্যা, অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী, সব কিছুর বিচারে ভারতের লোকসভার নির্বাচন এক বিরাট মহাযজ্ঞ। গত ১১ এপ্রিল সাত ধাপের ভোটযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯ মে শেষ তা হয়েছে। বিক্ষিপ্ত সহিংসতা হলেও সর্বোপরি শান্তিপূর্ণভাবে ৫৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নগদ অর্থের ছড়াছড়ির অভিযোগ ওঠার পর তামিল নাড়ুর ভেলোর আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটের ২৭২টি আসন প্রয়োজন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই ২৮২টি আসনে জয়লাভ করে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬ আসন। ওই নির্বাচনে ভরাডুবি হয় জাতীয় কংগ্রেসের। তারা পেয়েছিল ৪৪ আসন আর তাদের ইউপিএ জোট পেয়েছিল ৬০টি আসন। তামিলনাড়ুর এআইডিএমকে ৩৭ এবং মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪ আসন পেয়েছিল ওই নির্বাচনে।

আজ ভারতের স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে রাজ্যগুলোতে ভোট গণনা শুরু হবে। দুপুরের মধ্যেই ভোটের ফলের গতি-প্রকৃতি জানা যাবে। তবে প্রথমবারের মতো ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের সি­প মিলিয়ে দেখার জন্য পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশে একটু দেরি হতে পারে। পিটিআই’র খবরে বলা হয়েছে, প্রতিটি লোকসভা আসনের মধ্যে মধ্যে থাকা বিধানসভা ধরে ভিভিপ্যাট সি­প পরীক্ষার কাজ হবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি লোকসভা আসনের জন্য ৩০টি করে ভিভিপ্যাট মেশিন পরীক্ষা করে দেখা হবে। সেই হিসেবে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখা হবে সারা দেশের প্রায় ২০৬০০ পোলিং স্টেশনে। এবারের নির্বাচনে ৬৭ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট পড়েছে। যা ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ।

গতবারের সাফল্যের ওপর ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে বিজেপি। বুথ ফেরত জরিপগুলো বলছে, এনডিএ জোট তিনশোর মতো আসনে জয় পেতে পারে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থেকে অনেক দূরেই থাকছে বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট।

বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশের পর চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে বিজেপিতে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে এনডিএ জোটের শরিকদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তারা সম্ভাব্য নতুন সরকারের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। যাকে এনডিএ-২ জোট সরকার গঠনের ব­ু-প্রিন্ট নাম দেওয়া হয়েছে। আবারো এনডিএ জোট সরকার গঠিত হলে সেই সরকার কেমন হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে, তাদের অগ্রাধিকার কী হবে- এসব বিষয়ই রয়েছে এই পরিকল্পনায়। নৈশভোজের আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়েও দীর্ঘ বৈঠক করেন মোদি।

ক্ষমতাসীন বিজেপি খোশ মেজাজে থাকলেও বুথ ফেরত জরিপের ফলকে মানতে রাজি নন কংগ্রেস-সহ বিরোধীদলের নেতারা। তারা এই জরিপকে ক্ষমতাসীনদের ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছেন। তাদের ধারণা, ইভিএমের ফল বদলে দেওয়ার অপচেষ্টার অংশ হলো এই জরিপ। এই আশঙ্কায় মঙ্গলবার ভারতের নির্বাচন কমিশনে কিছু দাবি জানায় কংগ্রেসসহ ভারতের ২২টি বিরোধীদল। তাদের দাবি ছিলো, ত্রুটিমুক্ত ভোট গণনার জন্য ইভিএমের আগে ভিভিপ্যাটের (ভোটার ভেরিফাইড পেপার অডিট ট্রায়াল) সি­প গণনা। তবে গতকাল বুধবার বিরোধীদের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর একদিন আগেই এ ধরনের একটি আবেদনও নাকচ করে দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পরও ইভিএম নিয়ে সংশয় কাটছে না। বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইভিএম লুট করার চেষ্টা করছে বিজেপি। আর তাই মঙ্গলবার সারারাত দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইভিএম পাহারা দিয়েছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে বুথ ফেরত জরিপকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এসব জরিপ দেখে নিরাশ হবেন না। বরং কংগ্রেসের ওপর ভরসা রাখুন। আপনাদের পরিশ্রম বৃথা যাবে না। তিনি আরো বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকলকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।

বিজেপি জোট মোট চারবার ভারতের ক্ষমতায় এসেছে। যদিও প্রথম তিনবারই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত অটল বিহারি বাজপেয়ি। প্রথমবার ১৩ দিনের জন্য, দ্বিতীয়বার ১৫ মাসের জন্য, তৃতীয়বার পুরো পাঁচ বছর। এবারের নির্বাচনের পর বুথ ফেরত জরিপ পঞ্চমবারের মতো বিজেপির ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ ধরনের জরিপের ফল আগেও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৪ সালের নির্বাচন এর বড় উদাহরণ। ওই নির্বাচনে বলা হয়েছিল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার। বাস্তবে ঘটেছিল ভিন্ন। ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির সরকার হেরে যাবে বলে জরিপে বলা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস দুইশো’?র বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। তাই কোনো জরিপের ফল নয়, প্রকৃতপক্ষে জনতার রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কারা বসছেন দিলি­র মসনদে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন