ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
৩৩ °সে


ইরানে মার্কিন হামলার পরিণতি কী হতে পারে?

ইরানে মার্কিন হামলার পরিণতি কী হতে পারে?
ফাইল ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার পর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের তিনটি সামরিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় কোনো হামলা হয়নি ইরানে। ট্রাম্পের দাবি, ১৫০ মানুষ মারা যাবে শুনে হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এখনকার মতো যুদ্ধ এড়াতে সমর্থ হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু এখনও অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবারও বলেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো আছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার পরিণতি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণে ইতিমধ্যে তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। ইরানের রেভোলুশনারি গার্ডের মেজর জেনারেল হুসেন সালামির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান এটা স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশি আগ্রাসন মোকাবেলায় তারা সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধ জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ায় তাহলে এর ধরন ভিন্ন হবে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে তা সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ‘প্রক্সি’ ফোর্সকে ব্যবহার করতে পারে। এই ফোর্স তেহরানের অনেক দূর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।

সিএনএনের আরেকটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এই অঞ্চলে প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাসের মতে, ইরানে হামলা হলে তারা নিশ্চয়ই পাল্টা আঘাত হানতো। হয়তো কোনো মার্কিন জাহাজ বা বিমান আক্রান্ত হতো। ইরান উপসাগরে জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বিঘ্নিত করতে মাইন, ছোট আকারের নৌকা বা সাবমেরিন দিয়ে আক্রমণ চালাতো।

তার মতে, এ যুদ্ধ হবে অসম অর্থাত্ একটি পক্ষ খুবই শক্তিশালী, অন্যপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল। চাপের মুখে পড়লে ইরান এই সংঘাতকে ছড়িয়ে দিতে পারে। এর লক্ষ্য হবে ওয়াশিংটনকে এটা দেখানো যে, ইরানের ওপর কোনো ছোট আকারের আঘাতও পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।

আফগানিস্তান এবং ইরাকের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এটা বুঝেছে যে, আধুনিক যুগে কোনো যুদ্ধে প্রচলিত অর্থে জয়ী হওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে দুপক্ষই চায় কৌশলগত বিজয়। তবে সব সংঘাতেরই এমন কিছু পরিণতি হয়- যা আগেকার হিসেব-নিকেশে বোঝা যায়নি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসটি দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। তার দাবি- এই উত্তেজনার জন্য উস্কানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে তা কেবল ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন