কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দিলে কোন আলোচনা নয়ঃ ইমরান খান

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

পাক-আফগান সীমান্তে সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খান।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোন আলোচনায় বসবে না পাকিস্তান। বুধবার পাক-আফগান সীমান্তে বাণিজ্যিক ট্রানজিটের উদ্বোধন করতে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্মেলনে তিনি আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ সভায় কাশ্মীর বিষয়ে তার দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে কথা দেন।

তিনি বলেন, এটা ভারতের দুর্ভাগ্য যে, সে এখন কট্টর ও বর্ণবাদী হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে। একজন কট্টরপন্থীর পক্ষেই সম্ভব একটি অঞ্চলে ৪৫ দিন ধরে কারফিউ বহাল রাখা। 

ভারতের আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সঙ্ঘ) এর মতবাদের কড়া সমালোচনা করে ইমরান বলেন, 'আরএসএস ভারতীয়দের মধ্যে মুসলিম ও পাকিস্তানিদের জন্য বিদ্বেষ তৈরি করছে। এটাই তাদের নীতি। তাই কাশ্মীর থেকে কারফিউ পুরোপুরি না উঠিয়ে নিলে এবং তার বিশেষ মর্যাদা তাকে ফিরিয়ে না দিলে ভারতের সঙ্গে কোন আপোস নয়।' 

এ মাসের শেষ দিকে হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ সভার ৭৪তম সেশনে এসব দাবি তুলবেন বলে জানান পাকিস্তানের ২৭তম এই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, যদি কোন পাকিস্তানি কাশ্মীরিদের পক্ষে লড়াই করতে সীমান্ত পেরোতে চায়, তবে তিনি অনুমতি দেবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, 'যদি কোন পাকিস্তানি ভারতশাসিত কাশ্মীরে গিয়ে জিহাদে অংশ নিতে চান, তবে তিনি বা তারা কাশ্মীরের মজলুম জনগণের প্রতি চরম অন্যায় করবেন। তাদের এধরনের কর্মকাণ্ড কাশ্মীরিদের প্রতি অন্যদের মনে বিদ্বেষ তৈরি করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ভারত সরকার নিজে জম্মু ও কাশ্মীরে ৯ লাখ সেনা মোতায়েন করে রেখে বারবার কাশ্মীরে অস্থিরতার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। যদি কেউ এখান (পাকিস্তান) থেকে সেখানে যায় তবে তারা সীমান্ত-সন্ত্রাস ও ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য আবারও পাকিস্তানকে দায়ী করার সুযোগ তৈরি করে দেবে। ভারতের মিথ্যা অভিযোগের কারণে পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিলো। কিন্তু ভারত এখন আটকে গেছে। পুরো বিশ্ব দেখছে, তারা কাশ্মীরে কি চালাচ্ছে।'  

আরও পড়ুন: বানিয়াচংয়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

ইমরান তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, 'যে কেউ যুদ্ধের জন্য সীমান্ত পার করে কাশ্মীরে যাবে, সে-ই পাকিস্তান ও কাশ্মীরিদের গণশত্রু বলে বিবেচিত হবে।'

ইত্তেফাক/মিশু/নূহু