ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


তাইওয়ানের হাত থেকে কিরিবাতি কেড়ে নিলো চীন

তাইওয়ানের হাত থেকে কিরিবাতি কেড়ে নিলো চীন
ফাইল ছবি

তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কিরিবাতি। শুক্রবার তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অফিসিয়াল নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারটি পরিষ্কার করেছে কিরিবাতি সরকার। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত তিন বছরে এটি সপ্তম ঘটনা। আর এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়। ধরণা করা হচ্ছে, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য চীনের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ প্যাসিফিকের দেশটি। চার দিন আগেই সলোমন দীপপুঞ্জ চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যা এতদিন পর্যন্ত তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে বিবেচিত হতো।

কিরিবাতির এমন সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ বলেন, এটি তাইওয়ানের জন্য খুবই দুঃখজনক যে, বহুদিনের সুসম্পর্ক নষ্ট করে এবং বহুমুখী সহায়তা উপেক্ষা করে কিরিবাতি আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের ১৮০ টি বন্ধু রাষ্ট্রের বিপরীতে বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে মাত্র ১৫টি রাষ্ট্রের।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর চীন ও তাইওয়ান আলাদা হয়ে যায়। এরপর থেকেই নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য স্বায়ত্তশাসিত দেশটির সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছিলো চীন। সাই ইং-ওয়েন ক্ষমতায় আসার পরও চীনের সঙ্গে একীভূত হতে অস্বীকৃতি জানায়। সম্প্রতি চাপের মাত্রা বাড়াতে তাইওয়ানের সীমান্তে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করে দেশটির পর্যটন স্পটগুলো ঘেরাও করে চীন।

তাইওয়ান স্ট্রাটেজি রিসার্চ এসোসিয়েশন এর ফেলো ফাব্রিজিও বোজাত্তো বলেন, চীন বুঝিয়ে দিয়েছে, সে চাইলে তাইওয়ানের সব বন্ধু কেড়ে নিতে পারে।

আরও পড়ুন: বড়াল নদী থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার

তাইওয়ান এখন নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে অপেক্ষাকৃত ছোট ও দরিদ্র বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবছে। ১৯৭১ সাথে জাতিসংঘ থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো দেশটি।

চাইনিজ কালচারাল ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চাও চিন মিন এ বিষয়ে বলেন, সব বন্ধুরাষ্ট্র হারিয়ে ফেললে তাইওয়ান বিশ্বব্যাপী একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের মর্যাদা হারাবে এবং চীনের জন্য একে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করা সহজ হবে। জাতিসংঘও তখন কিছু করতে পারবে না।

ইত্তেফাক/মিশু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন