গোটা পৃথিবী ভ্রমণ করতে চান যে অন্ধ পর্যটক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক ডেস্ক

অন্ধ এবং বধির ইংল্যান্ডের টনি জাইলস। ছবি: সংগৃহীত

একই সঙ্গে অন্ধ এবং বধির ইংল্যান্ডের টনি জাইলস। কিন্তু জাইলসের সেই প্রতিবন্ধকতা তাকে আটকে রাখতে পারেনি চার দেয়ালের মধ্যে। তিনি ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের সবকটি মহাদেশ। গত ২০ বছর ধরে সাতটি মহাদেশের ১৩০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। স্বপ্ন দেখেন পৃথিবীর সব দেশ ভ্রমণ করবেন।

নিজের স্বপ্নের কথা উঠতেই টনি জাইলস বলেন, বিশ্বের সবকটি মহাদেশ আমি ঘুরেছি, এমনকি এন্টারটিকাও। আমার লক্ষ্য হলো বিশ্বের সবকটি দেশ ভ্রমণ করা। ইথিওপিয়া সফরের সময় এক সাক্ষাত্কারে ৪১ বছর বয়সি এ ইংলিশ ভ্রমণকারী বলেন, কেউ কেউ হয়তো বলবেন আমি ভ্রমণের চূড়ান্ত ধাপের উদাহরণ। তাদের আমি দেখাতে চাই, আপনি বিকল্প পন্থায়ও বিশ্বকে দেখতে পারেন। আমি মানুষের কথা শুনি, পাহাড়ে উঠি, সবকিছু আমি আমার স্পর্শ এবং পায়ের মাধ্যমে অনুভব করি। এভাবেই আমি একটি দেশ দেখি।

আরো পড়ুন: কনে যাত্রী বিয়ে করতে গেলো বরের বাড়ি!

ভ্রমণের ফলে নেতিবাচক আবেগ থেকে দূরে থাকা যায় বলেও মনে করেন জাইলস। এই রকম একটি একটি সফরের সময় তিনি পরিচিত হন তার গ্রিক বান্ধবীর সঙ্গে। তার সেই বান্ধবীও তার মতো অন্ধ। গত বছর বান্ধবীর সঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের বৃহত্তম দেশটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ট্রেনে করে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। তবে অধিকাংশ ভ্রমণে জাইলস একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন।

জাইলসের মধ্যে রয়েছে নতুনকে জানার রোমাঞ্চকর এক নেশা। জাইলসের ভ্রমণের অর্থ জোগাড় হয় তার বাবার পেনশনের টাকা থেকে। কাজেই আগে থেকেই যথেষ্ট পরিকল্পনা করে ভ্রমণসূচি ঠিক করেন তিনি। প্লেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে তার মা তাকে সাহায্য করেন। জাইলসের মতে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স কোম্পানিতেই অন্ধদের জন্য যথেষ্ট সুবিধা নেই। কোনো দেশে থাকার সময় যারা তাকে সাহায্য করেন তাদের সঙ্গে আগেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন তিনি। টনি জাইলস বলেন, আমি কোনো বই বা ট্রাভেল গাইড দেখে ঠিক করতে পারি না যে, একটি দেশের কোথায় কোথায় আমি যাবো। ঐ তথ্যগুলো ভ্রমণের আগেই জানতে হয় আমার। তাই আমি আগে থেকেই আমার সূচি ঠিক করে নেই। মাঝে মধ্যে আমি জানি না যে, কার সাথে আমার পরিচয় হবে বা কী হতে যাচ্ছে। আমার কাছে সেটিই অ্যাডভেঞ্চার।

আরো পড়ুন: সিসিটিভি ফুটেজ ও চার্জশিটের তথ্যে মিল নেই!

জাইলসের যখন ৯ মাস বয়স তখন তার চোখের সমস্যা ধরা পড়ে। ১০ বছর বয়সে তার দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে ছয় বছর বয়সে তিনি আংশিক বধির হিসেবে চিহ্নিত হন। বর্তমানে কানে শোনার জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল হিয়ারিং এইড ব্যবহার করলেও সব ধরনের শব্দ শুনতে পারেন না। নিজের অন্ধ হওয়ার স্মৃতি মনে করে বলেন, অন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৈশোরে দীর্ঘসময় বিমর্ষ ছিলাম। একটি বিশেষ স্কুলে লেখাপড়া করেন। সেই স্কুল থেকেই ১৬ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিদেশ ভ্রমণ করেন।

সবকিছু স্পর্শের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করেন জাইলস। অনুভবের মাধ্যমে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হতে চান। মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্যদের কথা শুনে নিজের মনে সবকিছুর একটি চিত্র তৈরি করেন তিনি। জাইলস জানান, ভ্রমণ শুরু করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল নিজের আবেগ থেকে পালানো। নতুন নতুন জায়গায় ভ্রমণের ফলে আমার মধ্যে অনেক ইতিবাচক চিন্তার জন্ম হয়েছে। মানুষের সাথে মেশার পর আমি বুঝতে পারি, আমি অন্ধ বলে তারা আমার সাথে মেশে না—মেশে আমার ব্যক্তিত্বের কারণে।—বিবিসি।

ইত্তেফাক/বিএএফ