ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উরিজিত প্যাটেল। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মোদি সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে অবশেষে পূর্বসুরীর পথ ধরলেন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উরিজিত প্যাটেল। সোমবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে প্যাটেল জানান, বর্তমান পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান তিনি। এত বছর ধরে রিজার্ভ ব্যাংকের বিভিন্ন পদে কাজ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্যাটেল।  বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক সাম্প্রতিককালে যে অবস্থান অর্জন করেছে তার পেছনে রয়েছে সমস্ত স্তরের কর্মীদের সহযোগিতা এবং কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু তিনি পদত্যাগের আর কোনও কারণ দেখান নি।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিজার্ভ ব্যাংকের ২৪তম গভর্নর মনোনীত হন প্যাটেল । তাঁর মেয়াদ ছিল তিন বছর। নরেন্দ্র মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় পদ থেকে সরতে হয় প্যাটেলের পূর্বসূরি রঘুরাম রাজনকে। সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে দ্বিতীয় মেয়াদে গভর্নর হতে চান বলে আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজন।

আরও পড়ুনঃ আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৬ কারখানায় ছুটি

রিজার্ভ ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছিল গত অক্টোবর থেকেই। কয়েকটি বিষয়ে সরকার ক্রমশ চাপ সৃষ্টি করছিল রিজার্ভ ব্যাংকের উপর, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যাংকে বাড়তি অর্থের জমা থাকা।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বা আরবিআই এর বর্তমান বাড়তি সঞ্চয়ের পরিমাণ ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা উন্নয়নে ব্যয় করতে চায় সরকার। কিন্তু ব্যাংকের বক্তব্য ছিল, জরুরি পরিস্থিতির কথা ভেবে সঞ্চয়ে হাত দেওয়া যাবে না। গতমাসে মুম্বাইয়ে একটি দীর্ঘ মিটিংয়ের পর ব্যাংকের বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, বাড়তি অর্থের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখতে একটি প্যানেল গঠন করা হবে, এবং ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণদানের প্রক্রিয়াটি ঢেলে সাজানো হবে।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার ভারতের পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ হবে, যার প্রেক্ষিতে বুথ ফেরত সমীক্ষার রিপোর্টের ফলে ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে বিজেপি সরকার। এই সময় প্যাটেলের পদত্যাগ সরকারের জন্য নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইত্তেফাক/টিএস