ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যেখানে মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।
বেশি মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করা ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু গর্হিত কাজই নয় বরং মারাত্মক পাপ। গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর গুদামে আটকে থাকে মানুষের বেঁচে থাকার রসদ।
মজুতদারি হলো কোনো পণ্য বা খাদ্যশস্য অধিক মুনাফার আশায় বাজার থেকে তুলে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা, যাতে সাধারণ জনগণের কষ্ট হয়। যে সব জিনিস আটকিয়ে বা মজুত রাখলে সর্বসাধারণের কষ্ট বা ক্ষতি হয়, তাকে মজুতদারি বলে (ফাতহুল করিম ফী সিয়াগাতিন নবিয়্যিল আমিন, পৃষ্ঠা-১৩৫)
হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেন কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম উপায়ে সংকট তৈরি করে আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দেবেন। (ইবনে মাজা-২/৭২৯)।
নবি করিম (সা.) বলেন সুবোধ ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুতকারী অভিশপ্ত হয়। (ইবনে মাজা ২/৪২৮)।
অপর এক হাদিসে নবি করিম (সা.) বলেন, পণ্যদ্রব্য আটকে রেখে বেশি মূল্যে বিক্রয়কারী ব্যক্তি অবশ্যই পাপী। শুধু তাই নয়, যে ব্যক্তি (কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর জন্য) ৪০ দিন পর্যন্ত কোনো জিনিস গুদামজাত করে রাখবে, তার এত গুনাহ হবে যে, এই সমুদয় সম্পদ দান করে দিলেও তার গুনাহ মাফের জন্য যথেষ্ট হবে না ( মিশকাত ২৭৭২)।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে রাসূল (সা.)- বলেন; যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্য মজুত রাখল সে আল্লাহ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল। আল্লাহও নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে। (মুসনাদে আহমদ-৮/৪৮১)।
নবীজি সা. আরও বলেছেন, মহান আল্লাহ যারা মজুতদারি করে তাদের ওপর মহামারি এবং চরম দারিদ্র্য চাপিয়ে দেন। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ধ্বংসের কারণ হয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, দায়িত্বশীলদের উচিত হবে এসব মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া। যদি তারা আদেশ অমান্য করে, তবে বিচারক প্রয়োজনে তাদের গুদাম খুলে দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করবেন।

