পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আলোচনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতিবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মনীষ দেওয়ান লিখেছেন, ‘এ মুহূর্তে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সত্যকথনের জরুরি দরকার। দীপেন দেওয়ান তার মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন শুধুমাত্র একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৭ ডিসেম্বর ৭১ এ রাঙামাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন কারী, ৭১ এ শহীদ জিয়ার সহযোদ্ধা, ৩৬ জুলাই বিপ্লব’এর প্রথম সারির বীর যোদ্ধা, কেন্দ্রিয় বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সহ সম্পাদক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে: কর্নেল মনীষ দেওয়ান’কে।।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লেখেন, ‘পার্বত্য মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) ব্যারিস্টার মীর হেলাল চেয়েছিলেন, দীপেন তালুকদার দিপু, সভাপতি, জেলা বিএনপিকে। যিনি জুলাই আন্দোলনে ছয় মাস রাঙামাটি থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কুখ্যাত আওয়ামী নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন-এটি রাঙামাটিবাসী সকলেই অবগত আছেন।’
ফেসবুক পোস্টে মনীষ দেওয়ান লেখেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে সুপারিশের এই দ্বন্দ্বে আমাদের পূর্ণ মন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রিয় নেতা, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত দীপন দেওয়ান হেরে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে। আমি এ বিচারের ভার দেশপ্রেমী পার্বত্যবাসী ও দেশবাসীর উদ্দেশে নিবেদন করলাম।’
ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্য নিজের বলে একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে মনীষ দেওয়ান বলেন, ‘মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন জল্পনাকল্পনা করছেন। আসল ঘটনা খোলাসা করার জন্য আমি এই পোস্ট দিয়েছি। তার (দীপেন দেওয়ান) ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে।’
এদিকে মনীষ দেওয়ানের ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার। তিনি বলেন, ‘ওই ফেসবুক পোস্ট আমি দেখিনি। আর কে কী বলল, তা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমি রাজপথে ছিলাম কি না, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দলের নেতা-কর্মীরা সবাই জানেন।’
পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে দীপন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যেখানে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটি গ্রহণ করতে সব সময় প্রস্তুত।’
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে দূরত্ব ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে গতকাল রাতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দীপেন চাচার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমার আব্বা (সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন) যখন জুডিশিয়ারিতে ছিলেন, তখন তিনি সহকর্মী ছিলেন।’
আমাদের মধ্যে কখনো দূরত্ব ছিল না উল্লেখ করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরে আমি ওনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু ওনাকে পাওয়া যায়নি। তবে উনি অসুস্থ ছিলেন শুনেছি। কেন পদত্যাগ করেছেন, বুঝতে পারছি না।’
এর আগে, গতকাল দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

