লিজা আত্মহননে পুলিশের তথ্যে গড়মিলের অভিযোগ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৫২

রাজশাহীতে শরীরে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের আত্মহননের ঘটনায় পুলিশ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য-উপাত্তে গড়মিল পেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। শুক্রবার রাজশাহীর একটি রেস্টহাউজে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন, কমিটি প্রধান (পরিচালক অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফাইজুল কবির।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির কাছে পুলিশের সদস্যরা বলেছেন, লিজা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য শ্বশুর বাড়ির তথ্য নিতে থানা থেকে বের হয়ে শরীরে আগুন দেন। অথচ থানায় পুলিশের করা জিডিতে লিজার শ্বশুর বাড়ির সব কথা রয়েছে। তাই এখানে অন্য ঘটনা রয়েছে। তদন্তে এমন আরও গড়মিল পাওয়া গেছে, যা এখনই বলা যাবে না। আগামী রবিবার (২৭ অক্টোবর) চার সদস্যের তদন্ত কমিটি মানবাধিকার কমিশনে তাদের রিপোর্ট পেশ করবেন। 

তিনি বলেন, লিজা রহমান মৃত্যুর আগে তার ভাইকে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছিলো। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ মামলা নিতে নারাজ ছিলো। 

তিনি আরও বলেন, গত ১ অক্টোবর প্রথম দফায় মানবাধিকার কমিশনের চার সদস্যের কমিটি রাজশাহী শাহ মখুদুম থানা, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওই কলেজছাত্রীর স্বামী, স্বজন ও বন্ধুদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটি আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। সব তথ্য উপাত্ত নিয়ে তারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করেছেন।

আরও পড়ুন: পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর হত্যা

উল্লেখ্য, এর আগে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের আত্মহননের ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি খুঁজে পায়নি পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। তবে ঘটনাটি থানায় রেকর্ডে না রাখায় শাহ মখদুম থানার ওসিকে কৈফিয়ত তলবের সুপারিশ করা হয় পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে গত ৩ অক্টোবর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নগরীর শাহ মখদুম থানায় স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করতে যান রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী লিজা রহমান। হঠাৎ থানা থেকে বের হয়ে সে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামেক হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত ২ অক্টোবর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, শ্বশুর মাহবুবুল হক খোকন ও শাশুড়ি নাজনীন আক্তারকে আসামি করে লিজার বাবা আলম মিয়া শাহ মখদুম থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করলে পুলিশ তাদের সকলকে গ্রেফতার করে। 

ইত্তেফাক/এসি