স্মরণ সভায় বক্তারা

সৎ সাংবাদিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন মনু

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৫৬

সৎ সাংবাদিকতার উৎকৃষ্ট উদহরণ ছিলেন দিল মনোয়ারা মনু। যিনি তার সাংবাদিকতা জীবনে ছিলেন আপোষহীন। তার কর্মজীবনে  বহু সাংবাদিক তৈরি করেছেন। একজন মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি তৈরি করেছেন তার অসংখ্য গুণগ্রাহী। মনু কখনোই হারিয়ে যাবেন না, তিনি তার কাজের মাধ্যমে সকলের মাঝে বেঁচে থাকবেন। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পাক্ষিক অনন্যা আয়োজিত সাংবাদিক, অধিকার কর্মী ও কলামিস্ট দিল মনোয়ারা মনুর স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।  

দৈনিক ইত্তেফাক ও অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় দিল মনোয়ারা মনুর সহপাঠী, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় তাসমিমা হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘মনু আমাকে বিভিন্ন সময় গাইড করেছিলেন। তার মাধ্যমে আমি পরিচিত হয়েছি। আমি তার মাধ্যমেই সাংবাদিকতায় এগিয়ে গিয়েছি। দিল মনোয়ারা মনু প্রায় ২৫ বছর অনন্যার সঙ্গে ছিলেন। মনুর উপর সৃষ্টিকর্তার রহমত রয়েছে। মনু সবার স্মরণে, আজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। 

দিল মনোয়ারা মনুর বন্ধু রোকসানা সুলাতানা বলেন, মনুর মধ্যে ছিলো শিশুদের জন্য ভালোবাসা। নিজের সন্তান না থাকলেও বাচ্চাদের জন্য তার আদর ভালোবাসার কমতি ছিলোনা। মনু ছিলেন একজন মানবিক মানুষ। 

কবি কাজী রোজী বলেন, আপনারা যারা এখানে এসেছেন তারা সবাই মনুর স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী। মনুর জন্য আপনাদের আলাদা আলাদা কষ্ট কাজ করছে। আসলে আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে, এটাই সত্যি। তবে মনুরা কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। তিনি তার বক্তব্যের পরে সাংবাদিক মনুকে নিয়ে তার লেখা কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।  

সাংবাদিক মুনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আফরোজা পারভীন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইডেন কলেজে পড়ার সময়ে মনুর আপার সঙ্গে অনেক ভালো সম্পর্ক ছিলো। যেসব গল্প তিনি আমাকে শুনিয়েছেন। এসময় তিনি সাংবাদিক মনুর লেখাগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

আরও পড়ুন: পত্নীতলায় বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৭

উল্লেখ্য, সাংবাদিক, অধিকার কর্মী ও কলামিস্ট দিল মনোয়ারা মনু ১৯৭৪ সালে ‘বেগম’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি ‘পাক্ষিক অনন্যা’তে যোগ দেন। চাকরি জীবনের ২৫ বছর পার করেন অনন্যার সঙ্গে। ‘অনন্যা’য় থাকার সময় তিনি নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এই বছরের ১৪ অক্টোবর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৯ বছর। 

ইত্তেফাক/এএএম