জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকাল থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে প্রবেশের ফটক আটকে অবস্থান নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চ’ করে অবস্থান নিয়েছে তারা। অবরোধের কারণে অফিসকক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অন্যদিকে সর্বাত্মক অবরোধের কারণে অধিকাংশ বিভাগে পূর্ব নিধার্রিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কার্যত বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন: ৪১তম বিসিএসের ঘোষণা আসছে শিগগিরই
এদিকে সর্বাত্মক ধর্মঘটকে উপেক্ষা করে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়েছেন একাধিক উপাচার্যপন্থী শিক্ষক। পূর্ব নির্ধারিত কোন পরীক্ষা না থাকলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে তাৎক্ষণিক একটি অনুশীলনী পরীক্ষা নিয়েছেন ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফা সুলতানা। এছাড়া আরেক উপাচার্যপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান ‘জোরপূর্বক’ ভবনে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। ভবনে প্রবেশের সময় আন্দোলনকারীদের পোস্টার ছিড়ে ফেলেন বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যাপক শাহনাওয়াজ, সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও আতিকুর রহমান টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দ্বারা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সাথে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে তারা। অধ্যাপক আতিকুর রহমান জোরপূর্বক ভবনে প্রবেশ করেছেন। এসময় আমাদের পোস্টার ছিড়ে ফেলেন তিনি। '
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তারা ধর্মঘটের আহ্বান করছে। কিন্তু আমার ছেলে মেয়েরা পরীক্ষা দিতে চায় আমিও পরীক্ষা নিতে চাই। তবে আমি জোরপূর্বক ঢুকি নাই, নর্মালি ঢুকছি।’
পোস্টার ছিড়ে ফেলার ব্যাপারে অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ‘পোস্টার ছেড়া হয়নি। ঢুকতে যেয়ে খুলে গেছে।’
এদিকে চলমান আন্দোলনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে আন্দোলনকারীদেরকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সম্মিলিত সংগঠন ‘অন্যায়ের বিপক্ষে ও উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’।
ইত্তেফাক/এমআরএম
