স্ত্রীকে হত্যার পর স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:২৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে বাক প্রতিবন্ধী স্ত্রী লিপি বেগমকে (৩৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. মোশারফ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে। তিনি মঙ্গলবার রাতে স্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিপির পরিবারের কাছে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ আসার খবর শোনে তিনি পালিয়ে যান। 

বুধবার দুপুরে পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তর জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠয়েছেন। 

লিপি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে। অভিযুক্ত মোশারফ একই গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে। মোশারফ-লিপি সম্পর্কে চাচাত ভাই-বোন। 

মোশারফ চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আর ওখানেই প্রথম স্ত্রী লিপিকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। লিপি ছাড়াও রেহানা বেগম (৩২) নামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রয়েছে। তিনিও সম্পর্কে মোশারফের চাচাত বোন।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই বাক প্রতিবন্ধী চাচাত বোন লিপির সঙ্গে মোশারফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিপিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন তিনি। এক পর্যায়ে তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার বক্তব্য বাক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারবে না। এর মধ্যে রেহেনা নামের আরেক চাচাত বোনের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয় এবং তাকে বিয়ে করে ফেলেন। বিয়ের পর তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

এদিকে, লিপির পরিবারের চাপে পুনরায় তাকে মোশারফ ঘরে তুলে নেয়। ১৫ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে লিপিকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতে শুরু করে। মঙ্গলবার রাতে লিপির লাশ চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার করে। কিন্তু নিহতের শরীরের বিভিন্নস্থানে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়া হয়। কিন্তু থানার কথা শোনে মোশারফ পালিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ময়নাতদন্তের জন্য।

কালীগঞ্জ থানার অফিসান ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা মৃত্যুর কোন কারণ খুঁজে পাইনি। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ এসেছে, সেহেতু আমরা ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবগত করব। তবে এ ব্যাপারে মামলা হলে ওই থানাতেই হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হবে।

ইত্তোফাক/আরকেজি