ফাইনালের মধ্যেও অনেক ফাইনাল

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৭

আজ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে দুই দলের সামগ্রিক লড়াইয়ের মধ্যেও হবে আলাদা কিছু লড়াই। ব্যক্তিগত এসব দ্বৈরথের ওপরই নির্ভর করবে চট্টগ্রাম আবাহনী কিংবা তেরেঙ্গানু এফসির শিরোপা জেতা না জেতা। ফাইনালের এমনই কিছু লড়াইয়ের কথা জানাচ্ছেন  নেয়ামত উল্লাহ

জামাল ভুঁইয়া-লি টাক

তেরেঙ্গানু অধিনায়ক লি অ্যান্ড্রু টাক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে চলে যাওয়ার পর তার খেলার ধরনে বদল এসেছে বেশ। প্রতিপক্ষ বিপদসীমার আশপাশ ছেড়ে নেমে এসেছেন একটু নিচে। তবে তাতেও খেলা কিংবা খেলানোয় ফারাক আসেনি একটু। চলতি আসরে ছয় গোল আর একটি যোগান তারই সাক্ষ্য দেয়। আজকের ফাইনালেও তার দিকে দারুণভাবেই তাকিয়ে থাকবে মালয়েশিয়ান দলটি। 

তেরেঙ্গানুর ইংলিশ মিডফিল্ডারকে রোখার গুরুদায়িত্বটা বর্তাবে চট্টগ্রাম আবাহনী অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কাঁধে। তবে জামাল রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণেও পারদর্শী। চলতি আসরে একটি গোল করে করিয়েছেন আরো তিনটি। আজকের ফাইনালেও তার কাছ থেকে ‘অলরাউন্ড’ নৈপুণ্যই আশা করবে স্বাগতিকরা।

ব্রুনো সুজুকি-ইকবল জন

প্রতিপক্ষের অফসাইড ফাঁদ এড়ানো আর দারুণ গতিতে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে পেছনে ফেলায় তেরেঙ্গানু ফরোয়ার্ড ব্রুনো সুজুকির জুড়ি মেলা ভার। মাঝমাঠ থেকে লি টাকের বাড়ানো লম্বা বলে কতোটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তা প্রথম ম্যাচে চেন্নাই সিটি এফসি টের পেয়েছিল হাড়েহাড়েই। তবে সে ম্যাচে চার গোল করে এরপরের তিনটি ম্যাচে গোল পাননি তিনি? ফাইনালে নিশ্চিতভাবেই সে ঘাটতিটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন ব্রাজিলিয়ান-জাপানি এই স্ট্রাইকার।

তাকে আটকাতে আবাহনী কোচ মারুফুলের তুরুপের তাস হবেন ইকবল জন। তার ঠিক জায়গায় থাকার দক্ষতা আজকের ম্যাচে সুজুকির গতি স্লথ করে দিতে বড়ো ভূমিকা রাখবে।

মারুফুল হক-নাফুজি জেইন

দলে লি টাক আর ব্রুনো সুজুকির মতো ভরসা থাকলে কোচের কৌশলগত কাজটা হালকা হয়ে যায়। চলতি টুর্নামেন্টে নাফুজি জেইন তাই তাদের ঘিরে কৌশল সাজিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন। বাকি কাজটা করে দিয়েছিল টাক-সুজুকির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। তবে ফাইনালে মালয়েশিয়ান কোচের কাজটা মোটেও সহজ হবে না? প্রতিপক্ষ ডাগআউটে যে মারুফুল হকের মতো চৌকস ফুটবল মস্তিষ্ক দাঁড়াবেন!

গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে জামাল আর চার্লসের ‘ডাবল পিভোট’কে ওপরে তুলে দিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে বাজিমাত করেছিলেন দুই জনকে কাজে লাগিয়ে গোকুলাম কেরালার মাঝমাঠ অকেজো করে দিয়ে? ফাইনালেও তার কৌশলগত মুন্সিয়ানাই পারে লি-টাক, সুজুকিদের রুখে দিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীকে  শিরোপা পাইয়ে দিতে।

চিনেদু ম্যাথিউ-তেরেঙ্গানু রক্ষণ

চলতি আসরে সবচাইতে বেশি গোল করেছে তেরেঙ্গানু। তবে গোল হজম করার দিক থেকেও এগিয়ে তারাই। চার ম্যাচ খেলে ১.৬৬ গড়ে সাতটি গোল হজম করেছে তারা। এমন ভঙ্গুর রক্ষণ ভালোই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কোচ নাফুজি জেইনের জন্যে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ আক্রমণে যখন চিনেদু ম্যাথিউর মতো দারুণ ড্রিবলার থাকবেন, তখন তো বটেই।

নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চলতি আসরে চারটি গোল করেছেন। সহায়তা আছে আরো দুটিতে। দারুণ ‘ক্লোজ কন্ট্রোল’ আর ড্রিবলে প্রতিপক্ষকে ভাঙার দক্ষতা আজও বড়ো নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারে আজকের ফাইনালে।

তবে কেবল ম্যাথিউতেই আটকে থাকবে না তেরেঙ্গানুর ভয়। আরিফুর রহমান আর কাওসার আলি রাব্বিদের মতো দেশিদের যোগান দেবার দক্ষতার সঙ্গে সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা রটকোভিচ অফুরান প্রাণশক্তি আর মিডফিল্ডার চার্লস দিদিয়েরের ‘ফরোয়ার্ড রান’ ভালোই এগিয়ে রাখবে চট্টগ্রাম আবাহনীকে।