ভিসি নেই, অচল শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৮

উপাচার্য সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৬টি অনুষদের অধীন ২৪টি বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা না হওয়ায় সংকট আরো প্রকট হয়েছে। আটকে রয়েছে সিলেবাস অনুমোদন দেওয়া, রেজাল্ট প্রকাশ, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ, দ্বিতীয় পরীক্ষক ও বহিঃসদস্য নিয়োগসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এতে বছরের শেষ সময়ে প্রায় ১০০টি ব্যাচের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়েও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক শিক্ষক জানান, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ৬টি অনুষদের সবগুলোর ডিনের পদ শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সেমিস্টার, ইয়ার ফাইনাল, ল্যাব ফাইনাল, ভাইভা পরীক্ষা ও রেজাল্ট প্রকাশ করা সম্ভব               হচ্ছে না। তাছাড়া গত সাত মাসেও একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো সভা হয়নি। এতে করে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার একেএম মাহবুব হাসান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলেও গত ৭ অক্টোবর ট্রেজারার পদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনিও বিদায় নিয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য না থাকায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এর ফলে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষক, ৭৮ জন কর্মকর্তা, ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ভাড়াকরা যানবাহন, তেল, বিদ্যুত্ বিল, টেলিফোন বিল, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ শাখার প্রধান সুব্রত কুমার বাহাদুর ইত্তেফাককে জানান, সাধারণত মাসের প্রথম দিন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়ে থাকে।  কিন্তু উপাচার্যের স্বাক্ষর ছাড়া এখন কিছুই সম্ভব নয়। বর্তমান সংকটের বিষয়টি ইউজিসিকে অবহিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান আবু জাফর মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, এ সংকট চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অগ্রগতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এখানকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর মো. হানিফ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক। এ সংকট নিরসনে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দক্ষ ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দিয়ে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।