গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বাক্প্রতিবন্ধী স্ত্রী লিপি বেগমকে (৩৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. মোশারফ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে। নিহত লিপি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী একই গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন। মোশারফ চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। আর চট্টগ্রামেই স্ত্রী লিপিকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকত। লিপি ও মোশারফের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই বাক্প্রতিবন্ধী চাচাতো বোন লিপির সঙ্গে মোশারফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিপিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত সে। এক পর্যায়ে তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মোশারফের বক্তব্য সে বাক্প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারবে না। এর মধ্যে রেহেনা নামে আরেক চাচাতো বোনের সঙ্গে মোশারফের সম্পর্ক হয় এবং তাকে বিয়ে করে ফেলে সে। বিয়ের পর তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানেই ভাড়া বাড়িতে থাকত তারা। তাদের সংসারে রয়েছে তিন ছেলে। এদিকে লিপির পরিবারের চাপে পুনরায় তাকে ঘরে তুলে নেয় মোশারফ। ১৫ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে লিপিকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতে শুরু করে সে। গত মঙ্গলবার রাতে লিপির লাশ সে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে। কিন্তু নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে থানায় খবর দেওয়া হয়। কিন্তু থানার কথা শুনে মোশারফ পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে মোশারফ তার স্ত্রীর লাশ শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায় এবং এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লিপির পরিবারের সন্দেহ হলে তারা থানায় খবর দেয়। এ কথা জানতে পেরে মোশারফ পালিয়ে যায়। বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যালে পাঠিয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা মৃত্যুর কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ এসেছে, সেহেতু আমরা ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবগত করব। এ ব্যাপারে মামলা হলে ঐ থানাতেই হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
