বরিশালে গণপূর্তের উচ্চমান সহকারীর দাপট

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বরিশাল গণপূর্ত জোন অফিসের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানের রোষানল থেকে বাঁচতে ৩১ কর্মচারী আবেদন জানিয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর আবেদনে ছয়টি অভিযোগ করেন তারা। তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলায় নিয়মিত পাম্পচালক মোহাম্মদ মানিক মৃধাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়ায় সম্প্রতি কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আবেদনে উল্লেখিত ৩১ জনের বাইরে থাকা আরো ১৫ জন কর্মচারী ভয়-ভীতির কারণে স্বাক্ষর না করলেও এ প্রতিবেদককে আজিজুর রহমানের নানা স্বেচ্ছাচারিতার কথা জানান। ভুক্তভোগীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, আজিজুর রহমানের নিজ বাড়ি ঝালকাঠির কল্যাণকাঠিতে সালেক রাঢ়ী নামে বিএনপির সক্রিয় নেতা হলেও ভোল পালটে সে গণপূর্ত দপ্তরে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। কথায় কথায় কর্মচারীদের পদোন্নতি চাকরি শেষ করার হুমকি দেয় হরহামেশাই। এছাড়াও ভাউচারভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হবে মর্মে তথ্য দিয়ে একটি আবেদনে ভাউচারভিত্তিক ও অন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন লোকদের নামে প্রধান কার্যালয়ে মিথ্যা চিঠি দিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ড তারা জানতে পেরে আজিজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে সে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সরকারি পুকুরে মাছ চাষের কথা বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে চাঁদা তুলে তা লোপাট করা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নাম ভাঙ্গিয়ে কর্মচারীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার কথামতো কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করে মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করছে। গণপূর্ত বরিশাল সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নাসিম খান ইত্তেফাককে জানান, উচ্চমান সহকারী আজিজুরের এহেন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তার কিছুই জানা নেই।

কর্মচারীদের আবেদন ও থানায় জিডির ব্যাপারে উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উলটো এ প্রতিবেদককে আবেদনের কাগজপত্র চেয়ে জানান যারা এসব কর্মকাণ্ড করেছে তাদের হাত-পা ভেঙে বরিশাল ছাড়া করা হবে। 

প্রসঙ্গত ঃ গণপূর্তর উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সাত জন নিয়মিত, কার্যভিত্তিক ২৩ জন ও ভাউচার ভিত্তিক একজন কর্মচারী দুই মাস পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত দেয়। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী ও থানায় জিডিও দায়ের করে তারা। বর্তমানে এ নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করায় গণপূর্ত ইএম উপবিভাগের অধীন ইলেকট্রিশিয়ান, লিফটম্যান, পাম্পচালক, মুদ্রাক্ষরিক পদের কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এতে করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার, সার্কিট হাউজ, সদর হাসপাতাল, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, কালেক্টরিয়েট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।