রোহিঙ্গা সংকট

মিয়ানমারকে মিথ্যা প্রচারণা বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০৮

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভ্রান্ত হয় এমন বানোয়াট, মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গারা কেন স্বেচ্ছায় ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না, তার কারণগুলো সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারেরে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ।

গত সপ্তাহে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন বা ন্যাম সম্মেলনে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটের দায় আবারও বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ন্যাম সম্মেলনে মিয়ানমারের ইউনিয়ন মন্ত্রী কিয়াও তিন অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ ধর্মীয় নিপীড়ন এবং জাতিগত নিধনের কথা বলে রোহিঙ্গা সংকটের ভিন্ন চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করছে। 

মিয়ানমারের এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তথ্য-বিকৃত করে ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে, যাদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখই এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নতুন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর। জাতিসংঘ ঐ অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিপীড়ন এবং জাতিগত নিধনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এটাই বাস্তবতা।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকেই গেছে বলে মিয়ানমার বক্তব্য দিয়ে আসছে। তারা বলছে, ১৯৭১ সালে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে গিয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মিয়ানমারের এই বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। মিয়ানমার এখনো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিধনে তাদের কৌশল বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আরসার তথাকথিত হামলার কথা বলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের শিবিরে আরসার কোনো তত্পরতা নেই বলে বাংলাদেশ আবারও জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তত্পরতা চালানো সম্ভব নয় বলে বাংলাদেশ মনে করে।

বাংলাদেশ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। সে কারণে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মিয়ানমার বাংলাদেশকে অসহযোগিতা করছে এবং অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। মিয়ানমার সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বরং তা আড়াল করতে চাইছে। সেজন্য মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সমাধানের চেষ্টায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সর্বশেষ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত করার জন্য পুরোপুরিভাবে যারা দায়ী, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অযৌক্তিক অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করে মিয়ানমার সরকারকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে মনোযোগী হওয়া উচিত। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়টি মিয়ানমারকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। একইসঙ্গে প্রত্যাবাসন যাতে টেকসই হয়, সেজন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে হবে মিয়ানমারকে।