জাবির সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীর ওপর হামলার অভিযোগ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:১৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট এবং পঞ্চম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এদিকে আন্দোলন চলাকালে দুই আন্দোলনকারীর ওপর সহকারী প্রক্টরের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সকাল সাড়ে দশটায় পূর্ব ঘোষিত সর্বাত্মক ধর্মঘট চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে আন্দোলনকারী এক নেতা ও এক ছাত্রীকে ‘হামলা-লাঞ্ছনা’র ঘটনা ঘটেছে বলে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও ‘নাটক ও নাট্যতত্ত্ব’ বিভাগের এক ছাত্রী। অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

হামলার বিষয়ে নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অবরোধ ও ধর্মঘটের সমর্থনে সকালে পুরাতন কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেই আমরা। সাড়ে দশটার দিকে কিছু উত্তেজিত শিক্ষার্থী এসে আমাকে ধরে টানতে থাকে। এ সময় শৈবাল স্যারও এসে আমাকে ঘাড় ও কলার ধরে টান দেন। প্রথমে আমি গেটের সঙ্গে হাতে আঘাত পাই। পরে স্যার ঘাড় ও কলার ধরে ফের টান দিলে নিচে পড়ে যাই। একজন শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে আমি হতবাক। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তিনি হামলা করেছেন। তার শাস্তি হওয়া উচিত।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মহিবুর রৌফ শৈবাল বলেন, ‘আমি কোনো হামলা করিনি। আমি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জয়ের কলার নয়, ঘাড় ধরে গেট থেকে সরিয়ে আনছিলাম। এ সময় নিচে থেকে কেউ একজন আমার তলপেটে ৮-১০টি লাথি মারে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। পরে সেখান থেকে দূরে সরে আমি দেখি আমার ইউরিন লাইনে আঘাত লেগেছে। এখন আমি সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘শিক্ষক কর্তৃক কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। আর ঐ ছাত্রীর অভিযোগপত্র এখনো পাইনি। সহকারী প্রক্টর শৈবাল জয়কে গেটের সামনে থেকে সরিয়ে আনতে যান। এ সময় পেছন থেকে কেউ জয়কে ধাক্কা দিলে জয় পড়ে যায়। এ ঘটনায় শৈবাল নিজে আহত হয়েছেন। তিনি এখন সাভারের এনাম মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন আছেন।’  

এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা চরম নিন্দনীয়। এর দ্বারা বুঝা যায় উপাচার্য তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে কিভাবে স্বৈরাচারীভাবে ক্যাম্পাস শাসন করছেন। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার ও শনিবার সান্ধ্যকালীন কোর্সও ধর্মঘটের আওতায় থাকবে। তবে জরুরি সেবাসমূহ (গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি ও চিকিত্সা সেবা) ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া শিক্ষক সমিতির নেতাদের অনুরোধের কারণে আগামীকাল (আজ) অ্যাকাউন্ট সেকশন দুই ঘন্টার জন্য খোলা থাকবে। যাতে করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বেতন তুলতে পারেন।’

শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার দাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রলীগ।