মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:১৯

মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বুধবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে রাতেই উন্মুক্ত সাগর ও নদীতে নামতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার জেলার তালতলী ও আমতলী, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, কুয়াকাটা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীর সাগর পাড়ের জেলেরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

জেলেরা জানান, তারা ২২ দিনের তারা মাছ শিকারে নামতে পারেননি। সংসারে অভাব-অনটন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই জেলেরা বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে চড়া সুদে ঋণ কেউবা এনজিও, সমিতি, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। তারা ট্রলার, নৌকা, জাল মেরামত কাজ সম্পন্ন করে রাত থেকেই সাগরে নামতে তারা সকল আয়োজন সমাপ্ত করেছে।

বুধবার বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, তেতুলিয়া, মাসকাটা, কীর্তনখোলা নদীতে মৎস্য বিভাগ ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে আটক জাল এবং জেলেদের পাশাপাশি যে সকল মাছ পাওয়া গেছে সেসব মাছের ৪০ থেকে ৫০ ভাগ ইলিশেরই পেট ভর্তি ডিম পাওয়া যায়।

সকাল থেকে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, গজারিয়া ও কীর্তনখোলা নদীতে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস ইত্তেফাককে জানান, সন্তোষজনক ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ। বুধবার রাত ১২টা থেকে উন্মুক্ত সাগর ও নদীতে ইলিশ শিকার করতে পারবে জেলেরা তবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা রক্ষা অভিযান চলবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এখন ইলিশ আহরণ না করলে তারা সাগরে চলে যাবে।

আরও পড়ুন: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির ব্যাংক হিসাব তলব

অভিযানে বরিশাল বিভাগে ১১৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১৬ দশমিক ৮০ মেট্রিকটন ইলিশ ও ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় মৎস্য অফিসের উপ- পরিচালক আজিজুল হক।

তিনি জানান, গত ৯ অক্টোবর থেকে ৬ জেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে মোট ২ হাজার ৩৬৭টি অভিযান ও ৯৯৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যার অনুকূলে ১৪৮৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান পরিচালনাকারী আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, অভিযানের সময়সীমা কিছুদিন বৃদ্ধি থাকলে  যেসকল মা-ইলিশ এখনো ডিম ছাড়তে পারেনি তার অধিকাংশই ডিম ছাড়তো। ৪০ ভাগ মা-ইলিশ ডিম ছাড়লে মিঠা পানির ইলিশের প্রাচুর্য বেড়ে যেত।

অভিযানে অংশ নেয়া এসব সদস্যরা জানান, মা-ইলিশ কিংবা জাটকা রক্ষার অভিযান প্রায়ই মাঝ নদীতে থমকে দাঁড়ায়। আধুনিক নৌ-যান ব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার নিয়ে জেলেদের কাছে পৌছানোর পূর্বেই জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে উঠে যেতে সক্ষম হয়। তাদের মতে ভাষানচর, বাগরজা, লেঙ্গুটিয়া পয়েন্ট, দড়ির চর, খাজুরিয়া, মাসকাটা নদী, তেতুলিয়া, মেঘনা, কীর্তনখোলার বেলতলা, চরবাড়িয়া, চরমোনাই পয়েন্ট, দপদপিয়া কালিজিরা পয়েন্টে প্রচুর ইলিশ ডিম ছাড়তে আসে। এসব নদীতে সার্বক্ষণিক নজরদারি হলে ইলিশ উৎপাদন আরো বেড়ে যেত।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস,এম অজিয়ার রহমান ইত্তেফাককে জানান, মা ইলিশ রক্ষায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’র নেতৃত্বে যৌথ টিম কাজ করেছে। সকলে একযোগে কাজ করায় এবার অভিযানে ব্যাপক সফলতাও এসেছে। তিনি বলেন, এবার অভিযানে মিডিয়া সেলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযান সম্পর্কিত সংবাদ মেসেজ আকারে অথবা ই-মেইলে সরবরাহ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম