মোজাহেদুল ইসলাম
মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও তাদের বিভিন্ন সেবায় ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে বসে আছে। যার মধ্যে উইন্ডোজ ৯, উইন্ডোজ টিএইচ, উইন্ডোজ এক্স, উইন্ডোজ ওয়ান প্রভৃতি ছিলো উল্লেখযোগ্য। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফট বেছে নিয়েছে উইন্ডোজ টেনকে। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণটিকে মাইক্রোসফট অভিহিত করছে উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। এর মূলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসে একে ব্যবহার করার সুবিধা। অর্থাত্, কম্পিউটার থেকে শুরু করে ট্যাবলেট পিসি কিংবা স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসেও এই একই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে। সব ধরনের ডিভাইসে এর ব্যবহারযোগ্যতা একে অলরাউন্ডার অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত করেছে। আর মূলত সে কারণেই একে ‘নম্বর টেন’ দিয়ে প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট।
কী আছে উইন্ডোজ টেন-এ
উইন্ডোজ ৮-এর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বলতে গেলে নতুন করেই ডিজাইন করা হয়েছে উইন্ডোজ টেন। ব্যবহারকারীর প্রিয় বৈচিত্র্যময় সব অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি নতুন ফিচারও সংযোজন করা হয়েছে এ সংস্করণে। উইন্ডোজের এ সংস্করণে থাকছে রিসাইজেবল টাইলস। নতুন ইমেইল, ফেসবুক ম্যাসেজ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ যেকোনো আপডেট চলে আসছে নোটিফিকেশন আকারে। এই ফিচারটি অনেকটা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইসের মতোই ডিজাইন ।
উইন্ডোজ টেন-এর মূল কিছু ফিচার
বৈচিত্র্যময় সব নতুন ফিচারের উইন্ডোজ টেনকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা স্বাগতই জানিয়েছেন। তবে নতুন সব ফিচারের মধ্যে আবার সব ফিচার তাদের কাছে সমাদৃত হয়নি। সমালোচকদের দৃষ্টিতে উইন্ডোজ টেন-এর সেরা কয়েকটি ফিচার এখানে তুলে ধরা হলো—
সব ডিভাইসে এক অপারেটিং সিস্টেম
ডেস্কটপ পিসি কিংবা ল্যাপটপ ছাড়াও এখন ট্যাবলেট পিসি, স্মার্টফোন কিংবা ফ্যাবলেটের মতো মোবাইল ডিভাইসগুলো দ্রুত বাজার দখল করে নিচ্ছে। প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা আলাদা অপারেটিং সিস্টেম নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের ঝামেলাকেই বাড়িয়ে তোলে। মাইক্রোসফটেরও এতদিন ধরে পিসি কিংবা ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনের জন্য ছিল উইন্ডোজের আলাদা আলাদা সংস্করণ। সেই পুরোনো ধারণাকে বদলে দিয়েই ডিজাইন করা হয়েছে উইন্ডোজ টেন যাতে করে যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইসকে চালানো যায় এই একটি অপারেটিং সিস্টেম দিয়েই। এতে করে ৪২ ইঞ্চি মনিটরে যেমন কাজ করবে উইন্ডোজ টেন, তেমনি ৫ ইঞ্চি স্মার্টফোনেও এটি কাজ করবে একই রকম দক্ষতায়। পাশাপাশি এতেই চলবে এক্সবক্স ওয়ান গেম কনসোলটিও। ফলে ব্যবহারকারীদের এখন প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে দ্বিধা ও বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় না। একই ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের মধ্যে সিনক্রোনাইজেশনের কাজটিও আরও ভালো হবে।
স্টার্ট মেন্যু
উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ বাজারে আসার আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল স্টার্ট মেন্যু। উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমে স্টার্ট মেন্যু না থাকাটা ছিল মাইক্রোসফটের জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচনার বিষয়। উইন্ডোজ টেন ডিজাইন করতে গিয়ে সেই ভুলকে শুধরে নেওয়ার প্রয়াস পেয়েছে মাইক্রোসফট। আর তাতে করেই উইন্ডোজ টেন-এ ফিরে এসেছে সেই স্টার্ট মেন্যু। নতুন স্টার্ট মেন্যুটি ডিজাইন করা হয়েছে অনেকটা উইন্ডোজ ৭-এর স্টার্ট মেন্যুর মতো করে। তবে এর ডান পাশের অংশটিতে রয়েছে সামান্য পরিবর্তন। এই অংশে এসে যুক্ত করা হয়েছে লাইভ টাইলস সুবিধা। এ ছাড়া উইন্ডোজ ৮-এর মতো মেট্রো সুবিধাও রাখা হয়েছে এতে।
একসঙ্গে উইন্ডোজ ৭ ও ৮-এর অভিজ্ঞতা
যারা উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন, তাদের কাছে উইন্ডোজ ৮ খুব একটা পছন্দ হয় না। আবার বিপরীতক্রমে যাদের কাছে উইন্ডোজ ৮ ভালো লাগে, তারা উইন্ডোজ ৭কে খানিকটা ব্যাকডেটেড মনে করে থাকেন। ফলে এই দুই সংস্করণের উইন্ডোজে অভ্যস্তরা খানিকটা পরস্পরবিরোধী অবস্থানেই রয়েছেন। এদের সকলকে একত্র করে নিতে উইন্ডোজ টেন ভূমিকা রাখেছে বলেই মন্ত্রব্য করেছে মাইক্রোসফট। কেননা এতে তারা দুইটি সংস্করণের ফ্লেভারই রেখেছে।
টাচ ফিচার
উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে টাচ-নির্ভর উইন্ডোজচালিত ডিভাইসের যাত্রা শুরু। আগের টাচ ফিচারের বেশ কিছু বাগ বা ত্রুটি দূর করে একে সম্পূর্ণ গতিশীল করে তোলা হয়েছে উইন্ডোজ টেন-এ। মাল্টিটাচ সমর্থিত এই অপারেটিং সিস্টেমে টাচ ডিভাইসগুলোতে আঙুলের স্পর্শেই জুম আউট, জুম ইন, স্ক্রলিং প্রভৃতি ফিচার উপভোগ করা যায় সহজেই।
পরিবর্তনশীল কিবোর্ড
বিল্ট-ইন কিবোর্ডে নতুনত্ব যোগ করেছে মাইক্রোসফট। ট্যাবলেটের জন্য এটি অবশ্য বেশি কার্যকরী। এই কিবোর্ড ব্যবহার শুরু করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে চাইবে যে একে ডেস্কটপ মুডে না কি ট্যাব মুডে ব্যবহার করা হবে। যে যেভাবে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, তিনি সেই মুডেই একে ব্যবহার করতে পারেন।
ভার্চুয়াল ডেস্কটপ/মাল্টিটাস্কিং
অনেক সময় কাজের প্রয়োজনের একই সঙ্গে কয়েকটি উইন্ডো ওপেন করার প্রয়োজন হয়। লিনাক্স কিংবা ম্যাকে এ কাজের জন্য রয়েছে ভার্চুয়াল ডেস্কটপ যা দিয়ে একাধিক উইন্ডো খুলে কাজ করা যায়। প্রতিটি উইন্ডোজ আলাদা আলাদা মনিটরে কাজ করার অনুভূতি দেয়। এই ফিচার এবার যোগ করা হয়েছে উইন্ডোজ টেন-এ। ভার্চুয়াল ডেস্কটপের মাধ্যমে এতে একইসাথে চারটি ভার্চুয়াল ডেস্কটপ খুলে কাজ করা যাবে। আর এই কাজটি সহজে করার জন্য এতে রয়েছে ‘টাস্ক ভিউ’ বাটন।
নোটিফিকেশন সেন্টার
উইন্ডোজ টেন-এ যোগ করা হয়েছে নোটিফিকেশন সেন্টার। এর ফলে এখন থেকে ইমেইল থেকে শুরু করে আপডেটসহ যেকোনো ধরনের ম্যাসেজ পাওয়া যাবে নোটিফিকেশন সেন্টারে। ডেস্কটপে স্ক্রিনের ওপরে ডান পাশে দেখা যাবে এসব নোটিফিকেশন অন্য প্রোগ্রামে থেকেও।
কমান্ড প্রম্পট আপডেট
উইন্ডোজ টেন-এ এসে কমান্ড প্রম্পটে কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহারের সুবিধা চালু করা হয়েছে। ফলে কপি-পেস্টের মতো কিবোর্ড শর্টকাটগুলোও কাজ করবে সিএমডি বা কমান্ড প্রম্পট মুডে। ফলে কমান্ড ব্যবহার করা আরও সহজ হয়েছে যেকোনো ব্যবহারকারীদের জন্য।
