রাঙ্গুনিয়ায় বনাঞ্চল থেকে গাছ পাচারের অভিযোগ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক ইটের ভাটায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের তত্পরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ইটভাটা মালিকেরা আগেভাগেই ভাটা এলাকায় অবৈধ জ্বালানি কাঠের মজুত গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাহিদার কারণে একাধিক স্থানীয় চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীচক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। কাঠ পাচারকারীদের তত্পরতায় এলাকার নৌ ও সড়কপথসমূহ চঞ্চল হয়ে উঠেছে। চাঁদের গাড়ি এবং জিপ গাড়িতে বোঝাই করে প্রকাশ্যে কাঠ যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইটের ভাটায়। এসব ভাটাতে ইট পোড়াতে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ায় ১১৩টি ইটের ভাটা রয়েছে। অধিকাংশ ইটের ভাটা চলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়াই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ অবৈধ উপায়ে জ্বালানি কাঠ হয়ে ইটের ভাটাতে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের মজুত থেকে বাহন পরিবর্তন করে জিপ ও চাঁদের গাড়িযোগে জ্বালানি কাঠ যাচ্ছে ইটের ভাটায়। রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকা চোরাই কাঠ পাচারের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পার্বত্য রাজস্থলী, বান্দরবান বনাঞ্চলের বৃক্ষ উজার করে জ্বালানি কাঠের চোরাই চালান রাইখালী বান্দরবান সড়কের দশমাইল এলাকা হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার কালিন্দিরানী সড়কপথে সরফভাটার গোডাউন সেতুতে কর্ণফুলী নদী অতিক্রম করে রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ও রাজানগর এলাকার ইটের ভাটায় পাচার হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজার করে কাপ্তাইয়ের চিত্মরম, শীলছড়ি, ডলুছড়ি, নারানগিরি, কোদালা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের মজুত থেকে চোরাই জ্বালানি কাঠ কর্ণফুলী নদীপথে নৌকা বোঝাই করে গোডাউন এলাকা দিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ইটের ভাটায় যায়। চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে নদী পার করে চাঁদের গাড়ি বোঝাই করে জ্বালানি কাঠ যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার ১২টি ইটের ভাটায়। চট্টগ্রামের ইছামতি এবং রাঙ্গামাটির কাউখালী এবং ঘাগড়া বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন সড়কপথে গাড়িযোগে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার মঘাইছড়ি, ঠান্ডাছড়ি, গাফতল এলাকার ইটের ভাটাগুলোতে পাচার হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নিজামউদ্দিন বাদশা বলেন, সরফভাটার সড়কগুলোতে রাতভর চোরাই জ্বালানি কাঠের গাড়ি চলে। কর্ণফুলী নদীর গোডাউন সেতু হয়ে এসব জ্বালানি কাঠের গাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইটের ভাটায় যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় ১৫০ গাড়ি জ্বালানি কাঠ সেতু পার হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জ্বালানি কাঠ পাচারে জড়িত। স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকায় কাঠ পাচারের জমজমাট ব্যবসা করছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগীয় কর্মকর্তা বখতিয়ার নুর সিদ্দিকী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় চোরাই জ্বালানি কাঠ পাচার প্রতিরোধের সক্রিয় ব্যবস্থার জন্য ইছামতি বন রেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট বনকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগীয় কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, কাঠ পাচার প্রতিরোধের জন্য বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ এবং বিট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে সর্বাত্মক তদারকি চলছে। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্চ কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, রাঙ্গুনিয়ার বনাঞ্চল যথাযথ সংরক্ষিত রয়েছে। চোরের উত্পাত ঠেকাতে বনকর্মীরা সক্রিয় আছেন। রাঙ্গুনিয়ার বাইরের এলাকা থেকে বিভিন্ন স্থানে ইটের ভাটায় জ্বালানি কাঠ যাচ্ছে। এসব পাচার ঠেকাতে বনকর্মীরা কাজ করছেন। গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে তিনটি চাঁদের গাড়ি আটক করে পাঁচ শতাধিক টন জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এলাকার মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনায় একটি অবৈধ জ্বালানি কাঠের ডিপো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চোরাই কাঠের পাচার বন্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।