সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুমিল্লায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষকের পদ শূন্য

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এছাড়া জেলার সতেরোটি উপজেলার সরকারি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২০০ সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাচীন এ জেলার ১৭টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২ হাজার ১০৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৭০৮টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। ২৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এছাড়া জেলায় ১ হাজার ২০৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। সূত্র জানায়, জেলার আদর্শ সদর উপজেলায় ১০টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় নয়টি, লালমাই উপজেলায় পাঁচটি, লাকসামে সাতটি, মনোহরগঞ্জে ২০টি, নাঙ্গলকোটে ৪০টি, চৌদ্দগ্রামে ২২টি, বরুড়ায় ছয়টি, চান্দিনায় সাতটি, বুড়িচং উপজেলায় ৩৭টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১টি, দেবিদ্বারে ২২টি, মুরাদনগরে ২৭টি, দাউদকান্দিতে ২২টি, হোমনায় ২১টি ও মেঘনা উপজেলায় ১২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে জেলার আদর্শ সদর উপজেলায় ৬১টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১১টি, লালমাই উপজেলায় ৪০টি, মনোহরগঞ্জে ৯৮টি, লাকসামে ৪৫টি, চৌদ্দগ্রামে ১১৪টি, নাঙ্গলকোটে ১৫৭টি, চান্দিনায় ৭০টি, বরুড়ায় ৭৭টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৫৮টি, বুড়িচংয়ে ১৪টি, দেবিদ্বারে ৪০টি, মুরাদনগরে ১২৪টি, দাউদকান্দিতে ১৪৪টি, হোমনায় ৪২টি, মেঘনা উপজেলায় ২৪টি পদ খালি রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে সবচেয়ে বেশি খালি আছে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার বান্নাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ আছে পাঁচটি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়া মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক আছেন। এদের মধ্যে চিকিত্সার জন্য ছুটিতে আছেন একজন শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে ১৩৭ জন। এখন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক মিলে এসব শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমতিয়াজউদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা শিক্ষক সংকটে রয়েছি। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন মজুমদার বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলার বান্নাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরুলী এ কে এম হিরমত আলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে দুজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এ উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আবুল বাসার, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সহসা শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এ সংকট দূর করা না গেলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।’

কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘জেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে। সিনিয়র শিক্ষকদের তালিকা করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এ তালিকা থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করলে এ সংকট নিরসন হবে। সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়েছে, নিয়োগ সম্পন্ন হলে এ পদেও সংকট কেটে যাবে।’