বগুড়ায় গ্রামীণ সড়ক
মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলা শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রামের পাকা রাস্তাগুলোতে গর্ত হয়ে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলো এমনই ক্ষত-বিক্ষত ও খানাখন্দে ভরে গেছে যে, ঐ রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যেমন যানবাহনের আয়ু কমে যাচ্ছে তেমনি ঝাঁকুনি আর দুর্ঘটনায় পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটাপাড়া বাজার এলাকায় পাকা রাস্তাটির দুই কিলোমিটার জুড়ে ক্ষত আর ক্ষত। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে প্রায় চার বছর আগে। ঐ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার কমপক্ষে ১৫ গ্রামের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।
রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা চার চাকার হিউম্যান হলার চালক রেজাউল করিম জানান, সোনারায় আটাপাড়া বাজার এলাকায় রাস্তায় খানাখন্দ ও ক্ষতের কারণে গত এক বছরে তার গাড়িটি তিন বার উলটে যায়। এতে গাড়ির যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঐ এলাকার সোনারায় মোড় থেকে খুপির গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চার কিলোমিটার রাস্তারও একই হাল হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন টুকু।
সদরের মাটিডালি মোড় থেকে লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে যাওয়া পীরগাছাহাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তাটির পীরগাছাহাট এলাকায় ছোটো-বড়ো মিলে প্রায় ২০টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পুরো সাত কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে পাঁচ কিলোমিটারেই কার্পেটিং উঠে গেছে। সম্প্রতি চিকিত্সার জন্য শহরের হাসপাতালে নেওয়ার সময় এই রাস্তায় ভ্যান উলটে এক গর্ভবতী নারী পড়ে যান। পরে এই রাস্তাতেই তার গর্ভপাত ঘটে বলে জানান স্থানীয় দোকানি মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, রাস্তাটিতে বৃষ্টির পানির জন্য খানাখন্দ দেখা যায় না।
স্থানীয় লাহিড়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাফতুন আহম্মেদ রুবেল বলেন, এই রাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের হলেও তা সংস্কার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য ইউনিয়ন পরিষদের নেই। তাই রাস্তার বিষয়টি একাধিকবার উপজেলার সমন্বয় কমিটির সভায় তুলেছিলাম এবং সংশ্লিষ্ট এলজিইডি বিভাগকে জানিয়েছি।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ থেকে সদরের জামুরহাট-নামুজা-ভাইয়ের পুকুর রাস্তারও একই অবস্থা। গত তিন বছর আগেই আট কিলোমিটার ঐ পাকা রাস্তার প্রায় তিন কিলোমিটারের কার্পেটিং উঠে গেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির মাধ্যমে জেলায় প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হয়। তবে এলজিইডি বিভাগ দাবি করছে খারাপ হয়ে গেছে এমন রাস্তা ৪০০ কিলোমিটারের বেশি হবে না। এবার অতিবৃষ্টি এবং তিন উপজেলায় বন্যায় আরো ১৮৭ কিলোমিটার রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী সাইফুল কবির বলেন, ‘এবার অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলোর বেশি ক্ষতি হয়েছে, রাস্তাগুলো সংস্কার করতে এরই মধ্যে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আরো বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কিছু রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’
