কোয়ালিটি এডুকেশন দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে :দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কোয়ালিটি এডুকেশন দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যাপক সহায়ক। কারো কোয়ালিটি এডুকেশন হলে তিনি আর দুর্নীতিবাজ হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল শুক্রবার রাজশাহী জেলা পরিষদের শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ/জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ও মা সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দুর্নীতি যেন না হয়—সেই ব্যবস্থা করা। অর্থাত্ দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। আর দুটি জায়গায় এ কাজ করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। এর একটি হলো প্রাথমিক বিদ্যালয় অপরটি হলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যে বাচ্চা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ভালো হবে, সে দুর্নীতি করবে না। তিনি বলেন, আমাদের সমন্বিত চেষ্টা থাকবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, দুর্নীতি ধরার জন্য প্রতিটি মানুষের পেছনে পুলিশ লাগানো সম্ভব নয়। দুর্নীতি দমনে ভূমিকা রাখবে প্রতিরোধমূলক কাজ। এই প্রতিরোধমূলক কাজ করবেন সম্মানিত শিক্ষক, মা, অভিভাবক ও এসএমসির সদস্যরা। সরকারের প্রতি অনুরোধ শিক্ষকদের কল্যাণে তাদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হোক। তিনি বলেন, কাজে ফাঁকি দেওয়ার অর্থ নিজেকেই নিজে ফাঁকি দেওয়া। আমরা যদি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা না দেই, তাহলে নিজের বাচ্চাটিও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। আমি সরকারকে লিখিতভাবে জানাব, নির্বাচন কাজ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের অন্য কোনো অতিরিক্ত কাজে যতটা পারা যায় জড়াবেন না। মা ও এসএমসির সদস্যদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সামাজিক চাপ অনেক সময় কর্মস্পৃহা সৃষ্টি করে, যা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের কাজে লাগতেও পারে।

তিনি বলেন, এসএমসির সদস্যদের মাঝে মাঝে স্কুল পরিদর্শন করে বাচ্চাদের নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এমন সব নতুন গল্প বলতে হবে। প্রাইমারি স্কুলে যা শেখানো হয় তা বাচ্চারা সহজে ভুলে না। শিক্ষকগণ প্রতিদিন একটি করে নতুন জিনিস শেখাবেন। গল্পের ছলে পড়ানোই হলো শিক্ষা প্রদানের উত্তম পদ্ধতি। বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে মন জয় করা যাবে না। ভালোবাসা-মায়া-মমতা দিয়েই তাদের হূদয় জয় করতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, বাচ্চাদের বাড়িতে যাবেন। প্রতিটি বাচ্চাকে তার নামে চেনা উচিত। আমরা সরকারকে জানাব সুশীল সমাজ নিয়ে একটি জেলা শিক্ষা কমিটি করা যায় কি না । তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধে এসব কার্যক্রম অনলাইন প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। যাতে দুর্নীতি বন্ধ হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির প্রমুখ।