‘নগরনামা :বসবাসের ভবিষ্যত্’
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী ‘নগরনামা: বসবাসের ভবিষ্যত্’। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহর নিয়ে গবেষণা করে বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলীরা বেশকিছু পরিকল্পনা ও নকশার প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। সেই সব পরিকল্পনা ও নকশা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এ প্রদর্শনী।
পরিবেশবিদরা বলছেন, আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো হবে পরিবেশ নিয়ে। শহর নগরের বিস্তার তার মধ্যে অন্যতম। আগামীর নগর-চরিত্র কেমন হবে? গ্রামগুলো পরিবর্তিত হয়ে কী রকম রূপ নেবে? গ্রাম ও নগরের মিলনে কী অন্য রকম জনপদ তৈরি হবে? এ প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে, প্রগতি, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন এ তিনের নতুন মোহনা, জীবনধারণ ও বসবাসের নতুনতর চিন্তাভাবনা ও রূপকল্প।
বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলীরা তাদের প্রদর্শনীতে বলতে চেয়েছেন, নগরনামার পূর্বশর্ত জলজ পরিকল্পনা। তবে এ মুহূর্তে চারিদিকে শুষ্কতাই যেন পুরো চরাচর দখল করে বসছে। শহর-নগর-বসতি তৈরি করতে গিয়ে শুষ্কতা, জল বিচ্ছিন্নতাকে মানদণ্ড মনে করে যা কিছু জলজ তা আমরা অগ্রাহ্য করেছি। নির্বিচারে জলাভূমি ভরাট করে যেমন তেমন বাড়িঘর বানাচ্ছি। নদী ও খাল গ্রাস করে শিল্পায়নের স্বপ্ন আঁকছি। রীতিমতো প্রকৃতি ও প্রগতি যেন পরস্পর এক অমীমাংসিত দ্বন্দ্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে। একদিকে উন্নয়ন ও প্রগতির ডামাডোল, অন্যদিকে প্রকৃতির নিয়ত বেড়ে চলার স্বভাব। এ দুইয়ের সহাবস্থান খুবই উপেক্ষিত।
বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্থপতি কাজী খালেদ আশরাফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহর নিয়ে গবেষণা করেছে এবং গবেষণালব্ধ, সুচিন্তিত বসবাসের প্রস্তাবনা ও উদাহরণ তৈরি করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে বিভাগীয় শহরসহ বেশ কয়েকটি ছোটো শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করা হয়েছে। সেসবই স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।
বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী ও বিশিষ্ট স্থপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের পরিচালক কাজী খালেদ আশরাফ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি জালাল আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। প্রদর্শনী চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রবিবার বন্ধ।
