গণসমাবেশে বক্তাদের হুঁশিয়ারি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বৈশ্বিক গ্যাস নিঃসরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য, শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এরপরও বাংলাদেশকেই এর অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষতির শিকার হতে হবে। ঢাকা ও সারা বিশ্বে গত তিন বছর যে অতিরিক্ত গরমের তাপ ভোগ করছি, তা বিগত ১২ বছর আগে নির্গত গ্যাসের কারণে হচ্ছে। তারপর পার হয়েছি একযুগ। আর আজ থেকে আরো ১২ বছর পর নির্গত গ্যাসের পরিমাণ এতই ক্ষতিকর হবে যে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আর নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকবে না। মানুষসহ সকল জীব-গাছপালা হবে মৃত্যুমুখী। এর মধ্যে কয়লা প্রকল্প দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলবে।
গতকাল শুক্রবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক গণসমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। কয়লা ব্যবহার বন্ধ করে সৌরশক্তি স্থাপন করে এসডিজি বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নিরাপদ সড়ক প্রচার অভিযান, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টসহ ৪০টি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের জোট ‘দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু সংকট নিরসনে গণকর্মসূচি (সাপাক)’ এ কর্মসূচি আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ সমুদ্রের নোনা পানির ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। আর এই শতাব্দী শেষে ক্ষতির শিকার মানুষের সংখ্যা ৭ কোটিতে পৌঁছাবে। আশঙ্কার চেয়ে দ্রুত হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এই উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিপদে পড়তে পারে। দেশের উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় বেড়িবাঁধ রয়েছে। ঐ বাঁধগুলোর গড় উচ্চতা ১২ থেকে ১৫ ফুট । কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় এসব বাঁধ যথেষ্ট উঁচু নয়। এতদিন ধারণা ছিল এই শতাব্দীর মধ্যে, অর্থাত্ ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুই মিটার বাড়বে। নতুন তথ্য বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যেই একই পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিপদে পড়বে। এখন মনে হচ্ছে এর সংখ্যা ৬৪ কোটিতে দাঁড়াবে।
এ সময় ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—কয়লা ব্যবহার বন্ধ করে সৌরশক্তি স্থ্াপন করা, সারা বিশ্বে গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা, উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা, বিকেন্দ্রীভূত, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সুশাসন নিশ্চিত, বাতাস, পানি-জলাশয়-নদী ও ভূমি তথা পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং বড়ো দূষণকারীদের থেকে সম্পদহানি ও ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় করা।
