ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মাদক মামলায় মঞ্জুর পাশাপাশি তার গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেনের পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডল শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই হারুন অর রশিদ। প্রথমে অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরন) রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘যে কাউন্সিলররা নগরবাসীর সেবা করবেন, আমরা এমন কাউন্সিলর চাই। তার মতো কাউন্সিলর আমরা চাই না। নির্বাচিত কাউন্সিলররা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার, অস্ত্র কোথা থেকে আসে এসব জানার জন্য পুলিশ যে রিমান্ড আবেদন করেছে তা মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’
অপরদিকে আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওয়াজিউল্লাহসহ কয়েক জন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ‘এজাহারে মামলার ঘটনা ৩টায়, আর অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে দুপুর ১টায়। তার অফিসে কোনো অস্ত্রই নেই। অস্ত্র থাকলে তিনি লাইসেন্স করিয়ে নিতে পারতেন।’ এরপর মাদক মামলায় প্রথমে ময়নুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
এরপর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের শুনানি করেন। তারা বলেন, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ময়নুল হক আক্রান্ত। আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অস্ত্র ও মাদক মামলায় ময়নুল হক মঞ্জুর ১০ দিন এবং মাদক মামলায় তার গাড়িচালকের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এদিন তাকে পুলিশ চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিকাটুলিতে নিজ কার্যালয় থেকে কাউন্সিলর মঞ্জুকে গ্রেফতার করে র্যাব। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক-ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ আছে।
