ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে মামলায় জর্জরিত বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর ফের মামলা হয়েছে। প্রায় দেড় বছরে চারটি মামলার বেড়াজালে বিদ্যালয়টিতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৮০০র স্থলে ৩৫০-এ এসে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিন অভিভাবক সদস্য। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা জানান, ২০১৮ সালে অবৈধভাবে কমিটি গঠন উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ঐ অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি স্মারকে ঐ বিদ্যালয়ের কমিটি বাতিল এবং মাউশিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদউদ্দিন ও তার সহযোগী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক আদালতে মামলা করলে আদালত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে।
ঐ কমিটির অভিভাবক সদস্য মাসুম শরীফ জানান, তিনি নিজেই জানেন না কিভাবে এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আরো জানান, আগের কমিটি বাত্সরিক ধার্যকৃত ২ হাজার ৮০০ টাকার স্থলে মামলা করে টিকে থাকা বর্তমান কমিটি প্রায় ৭ হাজার টাকা আদায় করছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের সরকারি বই বিক্রি, বিদ্যালয় মাঠে মাছ চাষ, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা ঘটনায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, দুই বছরের ব্যবধানে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৮০০ থেকে বর্তমানে ৩৫০ জনে নেমে এসেছে। যা অত্র এলাকার জন্য অশুভ সংকেত। অনেক অভিভাবক টাকার অভাবে সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ রেখেছেন। তিনি জানান, নতুন কমিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে নির্বাচন বানচালের মামলা করানো হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর দায়েরকৃত মামলায় ১ নম্বর বাদী মোখলেছুর রহমান প্রধান শিক্ষকের ভাই এবং এই বাদীর মেয়ে মুনমুন আকতার এয়ারপোর্ট থানাধীন মাধবপাশা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, যার জেএসসি রেজিঃ নং ১৯১৫৪৫১৯০০। অথচ বাদী মোখলেছ নিজেকে অভিভাবক সদস্য উল্লেখ করে মামলা করেছেন। একই মামলার ২ নম্বর বাদী কবির হোসেন ফকির প্রধান শিক্ষক ফরিদউদ্দিনের বেয়াই। তার ছেলে নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির গ্যালাক্সি শাখায় অধ্যয়নরত থাকলেও পপুলার স্কুলের ছাত্র দেখিয়ে অভিভাবক সদস্য হয়েছেন এই বাদী। ৩ নম্বর বাদী শাহনাজ বেগম আপন মামাতো বোন। কিন্তু তার স্বামী মাহফুজ আকন অভিভাবক সদস্য থাকার পরও সে অভিভাবক সদস্য হওয়ার জন্য মামলা করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদউদ্দিন তপশিল ঘোষণার পর মামলা হয়েছে বলে জানান। এ বিষয়ে অন্যান্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আব্বাসউদ্দিন জানান, একই শিক্ষার্থী দুই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকবে তা সম্ভব নয় আর এভাবে যদি কেউ অভিভাবক সদস্য হয় তাহলে তা বাতিল হবে। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস জানান, কোনো বিষয়ে মামলা হলে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না। তখন আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে আমরা বাধ্য হই।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের প্রথমদিকে চুরির মামলায় প্রধান শিক্ষক ফরিদউদ্দিন বাদী হয়ে দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন,একই বছরের মাঝামাঝিতে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে চুরির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মামলা করেন। ঐ মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষকের সেজো ভাই গিয়াসউদ্দিনকে গ্রেফতার করলে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়। ২০১৮ সালে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে পৃথক দুটি মামলা হয়। ২০১৯ সালে সাবেক প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক। সর্বশেষ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি আরো একটি মামলা হয়।
