ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ময়না খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী জাকির হোসেনসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগে উঠেছে। গতকাল হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত অবস্থায় নিয়ে গেলে ডাক্তার ময়নাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্ত্রী ময়নার লাশ ফেলে রেখে স্বামী জাকির হোসেনসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল ময়নার বড়ো ভাই আশরাফ আলী হরিপুর থানায় সাত জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ময়না হরিপুর উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী ও পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল কাদেরের মেয়ে। পুলিশ গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও মর্গে প্রেরণ করেছে।
আশরাফুল আলী বলেন, ২০০৪ সালে ময়নার বিয়ে হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই জাকির হোসেন মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপরই ময়না খাতুনকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে জাকির। স্ত্রী নির্যাতনের কারণে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠকও হয়। এরই মধ্যে জাকির হোসেন দিনাজপুরের এক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে। ঐ মেয়েকে কিছুদিন আগে আমার বোনের অজান্তে বিয়েও করে ফেলে সে। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই ময়নাকে রাত্রে কয়েক দফা মারপিট করে জাকিরসহ তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুজ্জামান বলেন, মৃতের শরীরে বহু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
