ছেলের চাকরি না হওয়ার ক্ষোভে রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না আরেক মুক্তিযোদ্ধা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৪

ছেলের চাকরি না হওয়ার ক্ষোভে পঞ্চগড়েও এক মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরিত চিঠি দিয়ে তিনি তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজ পরিবারকেও রাষ্ট্রীয় সম্মান না দিয়ে দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন। 

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার কাটালী মীরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সলিমউদ্দিন বৃহস্পতিবার ৩১ অক্টোবর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবরে এই চিঠি প্রেরণ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরেও ঐ চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করেন।

জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরিত চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আটোয়ারী উপজেলার ১৭টি  সরকারি  প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে  দপ্তরি  কাম  নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া  হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সলিমউদ্দিনের ছেলে সাহিবুল ইসলাম দাড়খোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে আবেদন করে এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ঐ নিয়োগে  মুক্তিযোদ্ধার  কোটা না মেনে নিয়োগ কমিটি সাদেকুল ইসলাম নামে অন্য এক প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে এই অনিয়মের অভিযোগে নিয়োগ কমিটির সভাপতি আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে (আটোয়ারী) একটি মামলা করেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলাকালীন একটি প্রভাবশালীমহল  মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে বাদী সাহিবুল ইসলাম ও তার  বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সলিমউদ্দিনকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা না মানায় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে দাবি করে ঐ  নিয়োগের অনিয়মের বিচার না হলে ঐ মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর তাকে সম্মান না দিতে নিষেধ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সলিমউদ্দিন জানান, আমি  দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা। ছেলের চাকরির জন্য ঘুষ দিতে পারিনি বলে ওরা আমার ছেলেকে চাকরি দিল না। আমার ছেলে যোগ্য প্রার্থী ছিল। সে আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তারপরও তার চাকরি হলো না। যারা টাকা দিয়েছে তাদের চাকরি হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদে মামলা করেছি বলে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এমন অনিয়ম যদি দেখতেই হবে তবে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম কেন? এসব ঘটনার বিচার না হলে মৃত্যুর পর আমি এমন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের দ্বারা রাষ্ট্রীয় সম্মান চাই না।

সলিমউদ্দিনের ছেলে সাহিবুল ইসলাম বলেন, প্রচুর অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ কমিটি এই চাকরি দিয়েছেন। আমার যেহেতু টাকা ছিল না তাই যোগ্যতা থাকার পরও আমার চাকরি হয়নি। আমি শুনেছি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকার দলীয় নেতা, নিয়োগ কমিটিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করেছেন।

আটোয়ারী  উপজেলা  নির্বাহী  কর্মকর্তা  (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ  মাহমুদ  হাসান  বলেন,  আমি  এখনো এরকম কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের কাগজ পেলে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

জেলা  মুক্তিযোদ্ধা  কমান্ডার  ও  জেলা  প্রশাসক  সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এক জন মুক্তিযোদ্ধা তার ছেলের চাকরি হয়নি বলে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন যে অনিয়মের  বিষয়টি  বিচার  না  হলে  তিনি মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান চান না। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি।