ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দিল্লির বায়ুদূষণ। বর্তমান অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে দিল্লিকে ‘একটি গ্যাস চেম্বার’ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির সব স্কুল ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছে। নির্মাণকাজও ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বায়ুর মানোন্নয়নের আগ পর্যন্ত জনগণকে খোলা জায়গায় শরীরচর্চা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধে আগামীকাল রবিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল দিল্লিতে বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে মুখে মাস্ক লাগিয়ে অনুশীলন করতে দেখা যায় বলে ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে।
গত জানুয়ারির পর বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি বায়ু ‘সিভিয়ার প্লাস’ বা জরুরি ক্যাটাগরিতে পৌঁছায়। গতকাল শুক্রবার সকালে দিল্লির বাতাসের মানসংক্রান্ত সূচক (একিউআই) ছিল ৪৫৯-এ। সাধারণত এই সূচক ২০০ ছাড়িয়ে গেলেই মানুষের শরীরে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। আবহাওয়া দপ্তরও জানিয়েছে, রবিবারের আগে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এখন হাওয়ার গতিবেগ খুবই কম। রবিবার থেকে হাওয়ার গতিবেগ বাড়লে তবেই দূষণ কমবে।
গতকাল স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি দিল্লির অবস্থার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দিল্লির বায়ুদূষণের জন্য পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানাও দায়ী। এ দুই রাজ্যের প্রশাসন কৃষকদের শস্যের উচ্ছিষ্ট পোড়াতে বাধ্য করায় এই বেহাল দশা হয়েছে। শিশুদের মধ্যে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখতেও পরামর্শ দিয়েছেন কেজরিওয়াল।
কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘দিল্লি একদম গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে। বিষাক্ত বায়ু থেকে নিজেদের রক্ষা করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে এখন। আমি দিল্লিবাসীকে সবকিছু নিয়ে মোকাবিলার আহ্বান জানাই। আমরা ৫০ লাখ মাস্ক বিতরণ করছি।’
তবে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের সমালোচনা করে বলেছেন, পরিবেশদূষণের মাত্রা নিয়ে তিনি দোষারোপের খেলা খেলছেন।
