‘শিল্পের আলোয় জ্বালি প্রাণের আলো’ স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের শীতকালীন নিয়মিত মৌসুমী নাট্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এটি চলবে আগামী বছরের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কথা সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, সমকালের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক তপন দাস, নাট্যব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার, পথনাটক পরিষদের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য ড. রতন সিদ্দিকী প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস।
অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, পথনাটকের প্রয়োজনীয়তা কখনো শেষ হবে না। ৯০-এর দশকের স্বৈরাচার আন্দোলনের পর অনেকে ভেবেছিল এর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। কেননা প্রতিপক্ষ নেই। কিন্তু এক প্রতিপক্ষ গেলে অন্য প্রতিপক্ষ সামনে দাঁড়ায়। কাজেই পথনাটক থাকবে। আয়োজকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পথনাটকের বিষয় নির্ধারণ করে দেন। এর মধ্যে রয়েছে—‘সামাজিক মাধ্যম আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?’, ‘নতুন প্রজন্মকে মানুষ হওয়ার তাগিদে বই পড়ায় উত্সাহিত করা’ এবং ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি।’
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আমাদের দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চিন্তা-চেতনা ও মননশীলতায় আমাদের অবনতি হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো সংস্কৃতিচর্চা। আমাদের সংস্কৃতির জাগরণ দরকার। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে আমরা মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিই; দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বার্তা দিই। তবে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সরকারকে বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলেই আগামীতে একটি সুন্দর জাতি গঠন করতে পারব।
মামুনুর রশিদ বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার ছিল পথনাটক। এটি এখন দিন দিন কলেবর পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পথনাটক মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা রাখি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চারটি নাট্যদল পথনাটক পরিবেশন করে। এর মধ্যে মান্নান হীরার রচনা এবং ইসতিয়াক হোসেনের নির্দেশনায় ‘জল ও জননীর গল্প’ পরিবেশন করে আরণ্যক। অধ্যাপক মলয় ভৌমিকের রচনায় এবং শেখ ফিরোজ আহমদ বাবুর নির্দেশনায় ‘প্রতিপক্ষ’ পরিবেশন করে ভিশন থিয়েটার। দেবব্রত সিংহের রচনায় এবং কাজল মজুমদারের নির্দেশনায় ‘ত্যাজ’ পরিবেশন করে মৈত্রী থিয়েটার। ইকরামুল হাসান শাকিলের রচনায় এবং পদাতিক নির্দেশনা দলের নির্দেশনায় ‘নুরু মিয়ার কিচ্ছা’ পরিবেশন করে পদাতিক নাট্যসংসদ বাংলাদেশ।
নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে আগামী ৮ নভেম্বর দনিয়া মাসুদ মঞ্চে, ১৫ নভেম্বর গাজীপুরে, ২২ নভেম্বর মিরপুরে, ২৯ নভেম্বর শিল্পকলা একাডেমির মাঠে, ৬ ডিসেম্বর মিরপুরে, ২০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এবং ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীতে পথনাটক প্রদর্শিত হবে। পরবর্তীতে আগামী বছরের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পথনাটকের সূচি ও স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়।
