শুধু বাংলাদেশ দলই নয়, দিল্লির বায়ুদূষণটা খোদ ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্যও শঙ্কার কারণ। গতকাল দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে ভারত। আর অনুশীলন শুরুর আগে এই দূষণ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন ভারতের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর।
যদিও তিনি বাস্তবতা মেনে নিয়েই এই দূষণের চ্যালেঞ্জ নিতে নিজেদের প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি নিজের পুরো খেলোয়াড়ি জীবন উত্তর ভারতেই কাটিয়েছি। খেলার সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে ছিল। আমাদের খেলতেই হবে। হ্যাঁ, বায়ুদূষণ আছে, কিন্তু ম্যাচের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করারও অবকাশ নেই।’ দিল্লি শহরের বায়ুদূষণ গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব জুড়ে আলোচনার ব্যাপার। বিশ্বের নানা রকম দূষণ সূচকে এই শহরটি থাকে ওপরের দিকে। বিশেষ করে বছরের এই সময়ে, মানে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে শহরটির দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নভেম্বর মাসে এই দিল্লির বায়ু কখনো কখনো স্বাভাবিকের চেয়ে দশ গুণ পর্যন্ত দূষিত থাকে। ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট হওয়া, গলা-বুক জ্বালা করার মতো ব্যাপার থেকে শুরু করে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
এই সময়ে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ দিল্লির আশপাশের এলাকায় এই সময়ে ফসল ঘরে ওঠে। তারপর কৃষকরা ঐতিহ্যগতভাবে ফসলের অবশিষ্টাংশে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া দিওয়ালির রাতে এখানে পোড়ে মণকে মণ বাজি। এই দুইয়ের দূষিত পদার্থগুলো ভারী করে দেয় দিল্লির বাতাস। শীতকালীন হাওয়া আসার আগ পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে।
ফলে এই সময়ে দিল্লিতে খুব একটা ক্রিকেট আয়োজন করা হয় না। ২০১৭ সালের নভেম্বরে দিল্লির দূষণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আর সে সময়ই শ্রীলঙ্কা দল এখানে টেস্ট খেলেছিল। তারা বারবার মাঠ ছেড়েছেন অসুস্থ বোধ করায়। সেই সঙ্গে ক্রিকেটাররা মাস্ক পরে মাঠে নেমেছিলেন।
এবার অবশ্য দিল্লি রাজ্য সরকার বলছে, দূষণ গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। বিক্রম রাঠোরও মনে করছেন, একবার ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে দূষণের ব্যাপারটা কারো মাথাতেই আসবে না। তিনি বলেন, ‘একবার ম্যাচটা শুরু হয়ে গেলেই এই ব্যাপারটা সবার চোখের আড়ালে চলে যাবে। আমি জানি এখানে স্বাস্থ্যগত একটা ব্যাপার জড়িত। সেজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু যখন খেলতে এসেছি, তখন খেলা শেষ করেই যাব।’
কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেই নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার পরিবর্তে অধিনায়ক রোহিত শর্মা। বিক্রম রাঠোর জানিয়েছেন, প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশ এখনো নির্ধারণ করেনি ভারত। তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই দিল্লিতে পৌঁছলাম। এটা কেবলই আমাদের প্রথম প্র্যাকটিস সেশন। টিম কম্বিনেশন কেমন হবে— সেটা তাই এখনো বলছি না। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেরই জন্যই হয়তো তারকাদের অনুপস্থিতি বড়ো কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
ইত্তেফাক/এসআর
